গাজীপুরের শ্রীপুরে ভূমিকম্পের সময় একটি পোশাক কারখানার আতঙ্কিত শ্রমিকরা হুড়োহুড়ি করে দ্রুত কারখানা থেকে বের হওয়ার সময় চার শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার পৌরসভার ৫ নন্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখ- এলাকার ডেনিমেক পোশাক কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত শ্রমিকরা জানান, ভূমিকম্প শুরু হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কারখানার সাইরেন বেজে ওঠে। এ সময় শ্রমিকরা দ্রুত হুড়োহুড়ি করে বিভিন্ন ফ্লোর থেকে নামতে থাকেন। পরে একত্রে বহু শ্রমিক কারখানার মূল ফটকে জড়ো হন। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা ফটক না খোলায় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে অনেকে আহত হন। তাদের দাবি, দ্রুত সময়ে মূল ফটক খুলে দেওয়া হলে এমন ঘটনা ঘটত না।
তবে কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এম মঈন ওই সময় মূল ফটক বন্ধ থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, সবাইকে ফাঁকা স্থানে জড়ো হতে বলা হয়েছিল। কিন্তু সবাই একত্রে মূল ফটকে গিয়ে হুড়োহুড়ি করে বের হতে থাকেন। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি বলতে চাননি।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ও গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে আসেন। এ সময় তিনি আহত শ্রমিকদের খোঁজখবর নেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল আশপাশের বিভিন্ন কারখানা বন্ধ থাকলেও ডেনিমেক পোশাক কারখানাটি চালু ছিল। সকাল সাড়ের ১০টার পর আচমকা ভূমিকম্প অনুভূত হলে কারখানার শ্রমিকরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি শুরু করেন। পরে সবাই একত্রে বের হতে গিয়ে আহত হন। একপর্যায়ে সহস্রাধিক শ্রমিক কারখানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। এ সময় একত্রে এত শ্রমিক অল্প স্থানে জড়ো হওয়ায় হুড়োহুড়ি বাড়ে। অল্প সময়ে সেখানে ভিড় তৈরি হয়। একপর্যায়ে ভয়ে শ্রমিকদের মধ্যে হুড়োহুড়ি বাড়লে অনেকে পদদলিত হন। পরে কিছু শ্রমিক উত্তেজিত হয়ে কারখানার মূল ফটক ভেঙে ফেললে শ্রমিকরা বেরিয়ে আসেন।
কারখানার আহত শ্রমিক নার্গিস আক্তার বলেন, ‘ভূমিকম্প শুরু হলে কারখানা ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একসঙ্গে বিভিন্ন ফ্লোরের শ্রমিকরা নিচে নেমে আসার চেষ্টা করেন। এ সময় হুড়োহুড়ি ও পদদলিত হয়ে শ্রমিকরা আহত হন। তিনি বলেন, ‘আতঙ্কের মধ্যে কারখানার মূল ফটকটি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক খুলতে রাজি হয়নি। এতে আরও বেশি আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’
শ্রমিক আলমগীর হোসেন বলেন, কারখানায় অন্তত ৮ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। আচমকা সবার মধ্যে ভূমিকম্প-আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে সবাই একসঙ্গে বিভিন্ন ফ্লোর থেকে নামার চেষ্টা করেন। ফলে চাপাচাপি-হুড়োহুড়িতে কয়েকশ শ্রমিক আহত হন। তিনি বলেন, অনেকে রক্তাক্ত হয়েছে। কারও কারও হাত-পা জখম হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইয়েদা ইমরুজ ইমা বলেন, ‘আচমকা এত রোগী একসঙ্গে হাসপাতালে আসায় আমরা চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছিলাম। পরে কিছু স্বেচ্ছাসেবী ডেকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে সাড়ে ৪শ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তার মধ্যে ১শ জনকে ভর্তি রাখা হয়েছে। আরও অর্ধশত আহতকে বিভিন্ন হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’
