মেক্সিকোর ফাতিমা মিস ইউনিভার্স

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৮ এএম

নানা নাটকীয়তা, বিতর্ক আর কেলেঙ্কারিতে ঠাসা এবারের ‘মিস ইউনিভার্স’ আসরের পর্দা নামল ব্যাংককে। আর সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বিজয়ের মুকুট পরলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণীর জয়কে ঘিরে বিশ্ব জুড়ে চলছে তোলপাড়। প্রতিযোগিতায় প্রথম রানারআপ হয়েছেন থাইল্যান্ডের প্রবীনার সিং এবং দ্বিতীয় রানারআপ ভেনেজুয়েলার স্টেফানি আব্বাসলি। এরপর রয়েছেন ফিলিপাইন ও আইভরি কোস্টের প্রতিযোগীরা। তবে মুকুট বিজয়ের আগেই আলোচনায় এসেছিলেন ফাতিমা বশ। কারণ, চলতি মাসের শুরুতেই এক অনুষ্ঠানে আয়োজকদের আচরণের প্রতিবাদে তিনি অনুষ্ঠানস্থল ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে ফাতিমার বিজয়ের খবরে ইন্টারনেট দুনিয়া এখন দুই ভাগে বিভক্ত। মেক্সিকোর মানুষ এবং যারা তার প্রতিবাদের প্রশংসা করেছিলেন, তারা এই জয়ে উচ্ছ্বসিত। অন্যদিকে, একটি বড় অংশ সন্দেহ প্রকাশ করছেন। তাদের প্রশ্ন, আগের ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতেই কি আয়োজকরা তাকে এই মুকুট উপহার দিলেন?

নানা কারণেই বিতর্কিত হয়েছে এবারের মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতা। নভেম্বরের শুরুতে প্রতিযোগিতার একটি প্রাক-অনুষ্ঠানে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণামূলক পোস্ট না দেওয়ায় ফাতিমার সঙ্গে প্রকাশ্যেই বাজে আচরণ করেন আয়োজক দলের নাওয়াত ইটসারাগ্রাসিল। ফাতিমা এর প্রতিবাদ করলে নাওয়াত নিরাপত্তারক্ষীদের ডাকেন এবং হুমকি দেন যারা ফাতিমাকে সমর্থন করবেন তাদেরও বাদ দেওয়া হবে। এরপরই ফাতিমা অনুষ্ঠান ছেড়ে বেরিয়ে যান। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে আরও কয়েকজন প্রতিযোগীও বেরিয়ে আসেন। বিষয়টি বিশ্ব জুড়ে শিরোনাম হয়। তখন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শেইনবাম ফাতিমার সাহসের প্রশংসা করে বলেছিলেন, নারীদের অন্যায়ের প্রতিবাদ করা উচিত।

গতকাল শুক্রবারের ফাইনালে সে অভিযুক্ত আয়োজককে মঞ্চে দেখা যায়নি। ফাতিমার বের হয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরেই নাটকীয়ভাবে পদত্যাগ করেন দুজন বিচারক। তাদের একজন আয়োজকদের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ আনেন। লেবানিজ-ফরাসি সংগীতজ্ঞ ওমর হারফাউচ ইনস্টাগ্রামে অভিযোগ করেন, একটি ‘অঘোষিত জুরি বোর্ড’ ফাইনালের আগেই বিজয়ীদের ঠিক করে রেখেছিল। যদিও মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মিস ইউনিভার্সের থাই ও মেক্সিকান মালিকদের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত পার্থক্যের কারণেই এবার এত বিশৃঙ্খলা। একদিকে থাই আয়োজক নাওয়াত, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় হট্টগোল আর পণ্য বিক্রিতে বিশ্বাসী। অন্যদিকে মেক্সিকোর ব্যবসায়ী রাউল রোচা, যিনি মূল মিস ইউনিভার্স অর্গানাইজেশন চালাচ্ছেন। এর আগে থাই মিডিয়া ব্যক্তিত্ব অ্যান জাকরাজুতাতিপ এ আসরের মালিক ছিলেন। কিন্তু তার কোম্পানি দেউলিয়া হয়ে যাওয়ায় নেতৃত্বে পরিবর্তন আসে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, থাইল্যান্ড এবং লাতিন আমেরিকার প্যাজেন্ট সংস্কৃতি সম্পূর্ণ আলাদা, যা এবারের আসরে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

১৯৫২ সাল থেকে চলে আসা এই প্রতিযোগিতার এটি ৭৪তম আসর। টেলিভিশনের দর্শক কমতে থাকায় মিস ইউনিভার্স এখন টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের দিকে ঝুঁকছে। লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এটি এখনো তুমুল জনপ্রিয় হলেও, নারীর শরীর প্রদর্শনী ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট পলা শুগার্ট বলেন, সবার কাছে এটি ভালো লাগবে না, এটাই স্বাভাবিক। তবে নারীদের ক্ষমতায়নই হওয়া উচিত এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত