বন্দর রক্ষায় হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অন্যতম কৌশলগত স্থাপনা, অথচ অন্তর্বর্তী সরকার হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করে এখতিয়ার বহির্ভূতভাবে এটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু বেআইনি নয়, জাতীয় স্বার্থবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে বন্দর রক্ষা ও করিডর-বিরোধী আন্দোলনের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মশাল মিছিলটি প্রেস ক্লাব থেকে শুরু হয়ে পুরানা পল্টন মোড়, জিরো পয়েন্ট ঘুরে পুনরায় পুরানা পল্টন মোড়ে এসে শেষ হয়।
রুহিন হোসেন প্রিন্স দাবি করেন, ২০০৬ সালে নোবেল পাওয়ার পরে ড. ইউনূস দেশে ফিরেই চট্টগ্রাম বন্দর উন্মুক্ত করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন। আজ ১৯ বছর পরে এসে তিনি বন্দর বিদেশিদের ইজারা দেওয়ার মধ্য দিয়ে তার স্বপ্ন পূরণ করছেন। জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তাঁবেদারি করতেই বন্দর ইজারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকার চুক্তি থেকে সরে না এলে হরতাল, অবরোধের মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করে দাবি আদায় করা হবে। সভাপতির বক্তব্যে ডা. এম এ সাঈদ বলেন, দেশের সব জাতীয় ও কৌশলগত সম্পদের মালিক দেশের জনগণ। দেশের জনগণকে অন্ধকারে রেখে চট্টগ্রাম বন্দর ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সরকারের নেই। সরকার যে অজুহাতে বন্দর ইজারা দিতে চায় সেটি যুক্তিযুক্ত নয়। দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি করে বন্দর পরিচালনা করতে হবে। আগামী দিনে জাতীয় সম্পদ রক্ষায় আমরা কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করব।
ডক্টরস ফর হেলথ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের সাবেক সভাপতি ডা. এম এ সাঈদের সভাপতিত্বে এবং বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দিন শুভর সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার হোসেন রেজা, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, বাংলাদেশ হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সেকেন্দার হায়াত, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্নু, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মাহির শাহরিয়ার রেজা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক রায়হান উদ্দিন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহীন রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির সভাপতি ডা. এস এম ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-বিসিএলের সভাপতি গৌতম শীলসহ প্রমুখ।
