কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় রেফাজুল ইসলাম (৪৩) নামের এক যুবক গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনা দেখে ফেলায় লালন মন্ডল (৪৫) নামে আরও একজনকে গুলি করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তিনি ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমúেøক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের রায়টাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রেফাজুল রায়টা নতুনপাড়া এলাকার জামাত মন্ডলের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার সময় মোবাইলে কল করে রেফাজুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। রেফাজুল মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ৭টার দিকে বাড়ির অদূরে রায়টাঘাট বাজারে কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে পরিবারের লোকজন গিয়ে কালামের দোকানের সামনে রেফাজুলের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় রেফাজুল ঘটনাস্থলে দুজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় ‘মাঙ্কি টুপি’ পরা তিন-চারজন আগ্নেয়াস্ত্রধারী হঠাৎ খুব কাছ থেকে রেফাজুলকে গুলি করে। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন রেফাজুল। এ ঘটনা দেখে স্থানীয় মৎস্যজীবী লালন মন্ডল চিৎকার দিলে তারা লালনকেও গুলি করে। গুলিবিদ্ধ লালনও রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
নিহত রেফাজুলের স্ত্রী তাসনারা (৩৬) বলেন, ‘যারা মোবাইলে কল করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গেছে তারাই রেফাজুলকে হত্যা করেছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক স্কুলশিক্ষক জানান, ‘বেশ কিছুদিন ধরেই এলাকায় রেল বিভাগ ও নদীর জায়গা-জমি, খড়ের মাঠ, বালুমহাল ও মাছ ব্যবসার দখল নেওয়াকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংঘাতের ঘটনা ঘটছে। কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ডান তীরের তালবাড়িয়া থেকে রায়টাঘাট এবং পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার চর রঘুনাথপুর থেকে লালপুর পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছে কাকন বাহিনী।
ভেড়ামারা থানার ওসি আব্দুর রউফ তালুকদার জানান, রায়টাঘাট এলাকায় রেফাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। আহত হয়েছেন লালন ইসলাম নামে একজন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। আধিপত্য বিস্তারের জেরে এ হত্যাকান্ডে র ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে
প্রাথামিকভাবে পুলিশের ধারণা। তবে নিহতের পরিবারের কেউ এখনো এজাহার নিয়ে থানায় আসেনি। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশের অভিযান চলছে।
