মুন্সীগঞ্জ নারায়ণগঞ্জে গ্যাসের জন্য হাহাকার

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩২ এএম

সঞ্চালন লাইনের পাইপ ফেটে রাজধানীর উপকণ্ঠ মুন্সীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একই কারণে নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের অভাবে মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দুদিন ধরে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও মীরকাদিম পৌরসভা এবং নারায়ণগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকা জুড়ে ঘরে ঘরে গ্যাসের জন্য চলছে হাহাকার।

গ্যাসের অভাবে বাড়িতে রান্না করতে না পেরে বাধ্য হয়ে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খেতে হচ্ছে। আবার অনেকে মাটির চুলায় রান্না সাড়ছেন। কেউ কেউ বাড়তি চুলা কিনে সিলিন্ডার গ্যাসে রান্নার আয়োজনে ব্যস্ত রয়েছেন। গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় হাজারো গ্রাহকের পরিবারে দুর্ভোগ নেমে এসেছে।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেল ৫টার দিকে হঠাৎ করেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। গতকাল রবিবার রাত ৮টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ চালু হয়নি। এতে গত শনিবার রাত থেকে গতকাল সকাল, দুপুর ও রাতে বাইরে থেকে কিনে আনা খাবারই ভরসা হয়ে উঠে বেশিরভাগ গ্রাহকের। টানা দুদিনের গ্যাসের অভাবে গৃহিণীরা নাকাল হয়ে পড়েছেন।

মুন্সীগঞ্জ শহরের বাগমামুদালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা স্কুলশিক্ষিকা খালেদা আক্তার নীলা জানান, শনিবার সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের চুলা জ¦লছে না। ওইদিন রাতে হোটেলের খাবার খেয়েছে পরিবারের সদস্যরা। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে রবিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে সারা দিনের খাবার তৈরি করতে রান্নাঘরে গিয়ে দেখেন গ্যাসের সরবরাহ নেই। তিনি সকালের খাবার কিনে আনেন রেস্তোরাঁ থেকে। এরপর ছুটে যান স্কুলে। কবে গ্যাসের সরবরাহ চালু হবে সেই চিন্তায় ভুগছেন তিনি।

শহরের পাঁচঘরিয়াকান্দি এলাকার গৃহিণী আকলিমা আক্তার বলেন, ‘গ্যাসের চুলায় রান্নার অভ্যাস দীর্ঘদিনের। এখন গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়েই বাড়ির উঠানে মাটির চুলায় লাকড়িতে রান্না করেছি। এতে ধোঁয়ায় চোখ জ্বালাপোড়া করেছে।’

এদিকে, নারায়ণগঞ্জ জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় শনিবার বিকেলেই। গতকাল দুপুরে কোনো কোনো এলাকার চুলায় আগুন ছিল নিভু নিভু। তবে অধিকাংশ এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। শহরের চাষাড়াসহ আশপাশের এলাকার বাসাবাড়িতে তিতাস গ্যাসের অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে। তাছাড়া শিবু মার্কেট ও পঞ্চবটি এলাকার আশপাশে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ।

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জোনাল ম্যানেজার আতিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে পঞ্চবটি এলাকায় গ্যাস সঞ্চালন লাইনের পাইপে ফাটল দেখা দেয়। মাটির অন্তত ৪০ ফুট গভীরে ওই পাইপে ফাটল রয়েছে। এ কারণে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাতভর মাটি খোঁড়ার কাজ করা হয়। কিন্তু মাটি ধসে পড়ায় কাজ এগোয়নি। রবিবার (গতকাল) সকাল থেকে সেখানে ভেকু দিয়ে মাটি খোঁড়া হচ্ছে। এরপর পাইপ লাইনের মেরামত শেষে সরবরাহ চালু করা সম্ভব হবে। তবে কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে তা তিনি বলতে পারছেন না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জের হাজারখানেক বাণিজ্যিক গ্রাহকের কলকারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই দুই জেলায় তিতাস গ্যাসের অন্তত ৮০ হাজার আবাসিক গ্রাহক রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ তিতাস গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ম্যানেজার শরীফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শনিবার থেকে মুন্সীগঞ্জের সাড়ে ১৩ হাজার আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ ফেটে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ওই পাইপ মেরামতের কাজ চলছে। আশা করছি পাইপ লাইনের কাজ শেষে শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত