সার উৎপাদনে গ্যাসের দাম বাড়ল ৮৩ শতাংশ

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২২ এএম

সার কারখানায় ব্যবহৃত প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম ১৬ থেকে বাড়িয়ে ২৯.২৫ টাকা করা হয়েছে। ডিসেম্বর থেকেই কার্যকর হবে এই দর। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ফলে সারের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এতে কৃষি তথা দেশের খাদ্যনিরাপত্তায় নেতিবাচক প্রভাবের আশঙ্কা তৈরি করেছে।

বর্তমানে ইউরিয়া সারের উৎপাদন খরচ পড়ছে কেজিতে ৩৮ টাকার মতো। আর বাজারে ২৭ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তাতে প্রতি কেজিতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১৩ টাকা।

গতকাল রবিবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সার কারখানার জন্য গ্যাসের নতুন দর ঘোষণা করেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ। সংস্থার নিজস্ব কার্যালয়ে ওই সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিইআরসির সদস্য মো. আব্দুর রাজ্জাক, মিজানুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহিদ সারওয়ার, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া প্রমুখ।

পেট্রোবাংলা এবং গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো ১৬ থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা করার আবেদন করেছিল। সেই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি গ্রহণ করা হয় অক্টোবর ৬ তারিখে।

পেট্রোবাংলার প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, দাম বাড়ানো হলে বাড়তি ৭ কার্গো এলএনজি আমদানি করে সারে সরবরাহ করা হবে। ছয় মাস (অক্টোবর-মার্চ) পুরোমাত্রায় (২৫০ মিলিয়ন ঘনফুট) গ্যাস সরবরাহ দেওয়া হবে। অবশিষ্ট ছয় মাসের মধ্যে এপ্রিল- মে ১৬৫ মিলিয়ন হারে, জুনে ১৭৫ মিলিয়ন এবং জুলাই-সেপ্টেম্বরে ১৩০ মিলিয়ন হারে গ্যাস সরবরাহ দেবে।

গণশুনাতিতে বিসিআইসির পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) দেলোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একইভাবে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর কথা বলে ৪.৪৫ থেকে বাড়িয়ে ১৬ টাকা করা হয়, কিন্তু নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ পাওয়া যায়নি, বরং অনেকখানি কমেছে সরবরাহ। যদি পুরোমাত্রায় গ্যাস দেওয়া হয় তাহলে ২০ লাখ টনের ওপর সার উৎপাদন করা সম্ভব। আর ২০ লাখ টন সার উৎপাদন করা গেলে গ্যাসের ৩০ টাকা হলেও আমদানির তুলনায় কম দাম পড়বে। বছরে ৩০ থেকে ৩২ লাখ টন ইউরিয়া সার জোগান দিতে হয়। গ্যাসের অভাবে আমদানি করে ১৬ থেকে ২১ লাখ টন জোগান দিতে হয়।

তিনি বলেছিলেন, গ্যাসের দাম যদি ৩০ টাকা হয় আর যদি ২০ লাখ টন উৎপাদন করতে পারি, তাহলে কেজিপ্রতি সারের উৎপাদন খরচ পড়বে ৪৬ টাকার মতো। সেখানে আমদানিতে ৬১ টাকার মতো ব্যয় হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের উৎপাদন খরচ পড়ছে ৩৮ টাকার মতো। বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২৭ টাকা দরে। আর বিসিআইসি ডিলারদের কাছে বিক্রি করছে ২৫ টাকা দরে। এতে সৃষ্ট ট্রেড গ্যাপ কেজিতে ১৩ টাকা ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে।

ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসির দৈনিক চাহিদা ৭২ মিলিয়ন ঘনফুট, শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা ৪১ মিলিয়ন ঘনফুট, চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের চাহিদা ৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট, যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা ৪১ মিলিয়ন ঘনফুট, আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেডের চাহিদা ৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত আশুগঞ্জ সার কারখানা অনেক পুরনো হওয়ায় গ্যাস খরচ অনেক বেশি, যে কারণে কারখানাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশি কোম্পানির মালিকানাধীন কাফকো সার কারখানায় দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট। কাফকোকে চুক্তির আওতায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আর তাদের কাছ থেকে আন্তর্জাতিক দরে ডলারে সার কিনে নেয় বাংলাদেশ। সম্প্রতি কোম্পানিটির সঙ্গে ৩০ টাকা দরে চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত