বিতর্কিত বক্তব্য

তোপের মুখে জামায়াত নেতা শাহজাহান

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রশাসন ও নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা শাহজাহান চৌধুরী। দলের পক্ষ থেকে তার এ বক্তব্যের দায় নেয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে এ বক্তব্যকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের হুমকি উল্লেখ করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান।

গত শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রামের নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে চট্টগ্রাম-১৫ আসন থেকে দলের মনোনয়নপ্রাপ্ত শাহজাহান চৌধুরীর বিতর্কিত বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে দলের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, মহানগর জামায়াতের সাবেক আমির শনিবার নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনের বক্তব্যে যে কথাগুলো বলেছেন, সেটি সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। আমাদের দল মনে করে, নির্বাচনে কোনো ধরনের দলীয় হস্তক্ষেপ ছাড়া পূর্ণ পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারলে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘জামাতের নেতা শাহজাহান সাহেবের বক্তব্য নিরপেক্ষ নির্বাচনের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র। একই সঙ্গে প্রশাসনের জন্য হুমকিস্বরূপ। ওনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

দেশ রূপান্তরের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপকালে নাজিমুর রহমান বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্যকে আমরা ফ্যাসিবাদী আচরণ বলে মনে করি। একই সঙ্গে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য এটা প্রকাশ্য হুমকি। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে এবং প্রশাসনের উচিত তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।

দলের কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন আসন থেকে জামায়াতের মনোনয়নপ্রাপ্ত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এদিন শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর জন্য আজকে যে সময় আল্লাহ তায়ালা আমাদের দান করেছেন আর ভবিষ্যতে এই রকম সুযোগ আমাদের আসবে না। দুর্নীতির টাকা বাদ দেন, পার্শ্ববর্তী দেশ হিন্দুস্তান থেকে বস্তা বস্তা টাকা আমাদের এই দেশে ঢুকবে আর অস্ত্র ঢুকবে।’

আমাদের আমিরে জামায়াত থাকলে বলতাম, ‘নির্বাচন শুধু জনগণকে দিয়ে নয়। আমি ন্যাশনালি বলব না, যার যার নির্বাচনী এলাকায় যারা প্রশাসনে আছেন, তাদের অবশ্যই আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে-বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, মামলা করবে।’

সম্মেলনে উপস্থিত দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ শাহজাহানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রাইমারি স্কুলের মাস্টারকে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে দাঁড়িপাল্লার কথা বলতে হবে। পুলিশ আপনার পেছনে পেছনে হাঁটতে হবে। ওসি সাহেব আপনার কী প্রোগ্রাম সকাল বেলায় জেনে নেবে, আর আপনাকে প্রোটোকল দেবে।’ টিএনও (ইউএনও) সাহেব যা উন্নয়ন এসেছে, সব উন্নয়নের হিসাব যিনি নমিনি (জামায়াতের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী) তার থেকে খুঁজে বের করতে হবে।

শনিবার রাতে তার এ বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন শাহজাহান চৌধুরী। অনেকে তার এ বক্তব্যকে আগামী নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের গোপন পরিকল্পনার বহিঃপ্রকাশ বলেও মন্তব্য করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত