অতিরিক্ত সংস্কার করতে গিয়ে যেন রাষ্ট্রকাঠামো দুর্বল না হয়ে যায়, সেই চিন্তাও করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, ‘এ সরকারের আমলে যত বড় বড় সংস্কার, তা আইনের মাধ্যমে হয়েছে।’
গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনে জগন্নাথ-সোহেল স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ই-পারিবারিক আদালত’ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় এই ই-পারিবারিক আদালত তৈরিতে সহযোগিতা করে। অনুষ্ঠানে সংস্কার নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘অতিরিক্ত সংস্কার করতে গিয়ে রাষ্ট্রকাঠামো যেন দুর্বল না হয় সেই চিন্তাও করতে হবে। তাই সংস্কার অবশ্যই বাস্তব চিন্তার আলোকে করতে হবে। সংস্কার গ্রহণ করার জন্য দেশের মানুষকেও প্রস্তুত করতে হবে। নতুন সরকার এলেও যেন আমাদের উদ্যোগগুলো চলমান থাকে, সেই আকাক্সক্ষা থাকবে। না হলে উদ্যোগগুলো মøান হয়ে যাবে।’
সংস্কার মানেই সংবিধান পরিবর্তন নয় এমন উল্লেখ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের উদ্যোগ তুলে ধরেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ২১টি ক্ষেত্রে সংস্কারকাজ করা হয়েছে। এসব সংস্কার টিকবে না, যদি না আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এতে যুক্ত না হন এবং ধারাবাহিকতা বজায় না থাকে।’
বিচারব্যবস্থাসহ সব ক্ষেত্রেই ডিজিটালাইজেশনের দিকে এগোনোর সময় এসেছে উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘দেশে ই-পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে নিঃসন্দেহে ভোগান্তি ও দুর্নীতি কমবে, সময়ও বাঁচবে। কারণ ই-পারিবারিক আদালত চালুর ফলে বিচারপ্রার্থীকে আর আগের মতো ঘুরতে হবে না।’ তিনি বলেন, ‘পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে আগে পারিবারিক আদালতে যেতে হতো। এখন পারিবারিক বিরোধের ক্ষেত্রে প্রথমে অবশ্যই লিগ্যাল এইড অফিসে যেতে হবে। সেখানে সন্তুষ্ট না হলেই শুধু পারিবারিক আদালতে যাওয়া যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন ২০ জেলায় এই কার্যক্রম চালু করেছি, আমাদের স্বপ্ন আছে, যাওয়ার আগে ৬৪ জেলায় চালু করব। যখন এই কার্যক্রম সারা দেশে সম্পূর্ণভাবে চালু হবে, তখন বাংলাদেশের মামলার এক-তৃতীয়াংশ লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে। আশা করি, এর ফলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে মামলার জট অন্তত ৫০ শতাংশ কমে যাবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।
