চট্টগ্রামের জামায়াত নেতা শাহজাহানকে দলের শোকজ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:১০ এএম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসন নিয়ে আপত্তিকর ও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীকে দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস (শোকজ) পাঠানো হয়েছে। তাকে আগামী সাত দিনের মধ্যে এই নোটিসের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। গত সোমবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার স্বাক্ষরিত এই নোটিস পাঠানো হয়।

নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের জিইসি কনভেনশন সেন্টারে নির্বাচনী দায়িত্বশীল সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী বক্তব্যে বলেছেন, ‘নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়, যার যার নির্বাচনী এলাকায় প্রশাসনের যারা আছে, তাদের সবাইকে আমাদের আন্ডারে নিয়ে আসতে হবে। আমাদের কথায় উঠবে, আমাদের কথায় বসবে, আমাদের কথায় গ্রেপ্তার করবে, আমাদের কথায় মামলা করবে।’ তার, এই বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বক্তব্যটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও মূল চেতনাকে স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। জামায়াত মনে করে, প্রশাসনকে তাদের দায়িত্ব পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালন করতে দেওয়া উচিত এবং এখানে দলের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই।’

এর আগেও শাহজাহান চৌধুরী সাংগঠনিক ভাবমূর্তি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী বক্তব্য দিয়েছেন বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনায় তাকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে, পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং আমিরে জামায়াত নিজেও তাকে ডেকে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। কিন্তু তার মধ্যে কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি।

নোটিসে আরও বলা হয়েছে, এই বক্তব্যের পর প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর থেকে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। দেশের কূটনৈতিক মহল থেকেও সরাসরি প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশ-বিদেশের জামায়াতের জনশক্তি ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সংগঠনের ভাবমূর্তি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ধরনের বক্তব্য দলীয় গঠনতন্ত্র, নীতি-আদর্শ, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

এ অবস্থায় আমিরে জামায়াতের নির্দেশে তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আগামী ৭ দিনের মধ্যে লিখিত সন্তোষজনক জবাব না পেলে দলীয় গঠনতন্ত্র ও শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিসে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ নভেম্বর সন্ধ্যায় জিইসি কনভেনশন সেন্টারে জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর নির্বাচনী দায়িত্বশীলদের সম্মেলনে শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেছিলেন, ‘আমাদের আমিরে জামায়াত থাকলে বলতাম, নির্বাচন শুধু জনগণ দিয়ে নয়। যার যার এলাকায় প্রশাসনের লোকদের আমাদের আন্ডারে আনতে হবে। প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার থেকে শুরু করে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষক, পুলিশ, ওসি, ইউএনওসবাইকে দাঁড়িপাল্লার (জামায়াতের প্রতীক) পক্ষে কাজ করতে হবে।’ তার বক্তব্যটি ভাইরাল হওয়ার পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে জামায়াত। দলের নেতারা এটিকে ‘ব্যক্তিগত মত’ বলে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনও এ বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত