চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে দেওয়া রুলের শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ৪ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ রায়ের জন্য এদিন ধার্য করে। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম প্রমুখ শুনানিতে অংশ নেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।
গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া চালানো যাবে না বলে মৌখিক আদেশ দেয়। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ ওইদিন আদালতকে আশ্বস্ত করে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পর্কিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। গত ১৯ নভেম্বর রুলের ওপর শুনানি শুরু হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরে ২০০৭ সালে নিউমুরিং টার্মিনালটি নির্মিত হয়। বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কনটেইনারের বেশিরভাগ এই টার্মিনাল দিয়ে পরিবহন হয়। এটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘সাইফ পাওয়ারটেক’ পরিচালনা করে আসছিল। গত ৬ জুলাই তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর এটি পরিচালনার দায়িত্ব পায় নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।
নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্র্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়। টার্মিনাল পরিচালনা করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এ রিট আবেদনটি করেন। রুলে দেশি অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।
