বাটলারের হাই-লাইন ডিফেন্স তত্ত্বে আবারও সর্বনাশ

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৫ পিএম

ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের এক গুঁয়েমির শিকার হতে হয়েছে আরেকবার। এক যুগ পর জাতীয় স্টেডিয়ামে খেলতে নেমে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে হারের পরিণতি বরণ করতে হয়েছে মালয়েশিয়ার কাছে, যাদের তিন বছর আগে ঢাকাতেই হারিয়েছিল ৬-০ ব্যবধানে। পুরোটা ম্যাচ আক্রমনাত্মক ফুটবল খেলেও শেষ পর্যন্ত কোচের বিতর্কিত হাই-লাইন ডিফেন্স তত্ত্বে বলি হতে হয়েছে বাংলাদেশকে। নিজেদের ঘর অরক্ষিত রাখার চড়া মাশুল গুনতে হয় ম্যাচের ২৯ মিনিটে। মালয়েশিয়ার জয় সূচক গোলটি করেন নুর আইনসিয়া বিন্তে মুরাদ। এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি অংশ হিসেবে ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করেছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। ফুটবল ভক্তরাও এসেছিল ঋতুপর্ণা চাকমাদের জয় দেখতে। তবে কোচের ভুল কৌশলে টানা তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ পেতে হয়েছে বাংলাদেশকে।

গত জুলাইয়ে মিয়ানমারে তিন কঠিন প্রতিপক্ষকে হারিয়ে আগামী বছর এশিয়ান কাপের মূল পর্বে নাম লিখিয়েছিল বাংলাদেশ। ইতিহাসে নাম লেখানোর পর প্রশ্ন ছিল বড় মঞ্চের জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা সেরা মানের হবে তো? চার মাসের বেশি সময় পাড় করার পর মাঠে বাংলাদেশের যে করুণ দশার দেখা মিলছে, তাতে শঙ্কার মেঘ উঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে বাটলার নিজের মতো করে যেভাবে দলটিকে খেলাতে চাইছেন, তাতেই ভীতিটা বাড়ছে প্রতি ম্যাচেই। অক্টোবরে থাইল্যান্ড গিয়ে এই হাই-লাইন ডিফেন্স করে খেলতে গিয়ে দুই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে বাজে ভাবে। ঘরের মাঠে তিনজাতি সিরিজ শুরুর আগে তার অকার্যকর কৌশল নিয়ে প্রশ্ন করায় ক্ষেপে উঠেছিলেন বাটলার। বলেছিলেন একই কৌশলে খেলাবেন। শেষ পর্যন্ত সেটা করতে গিয়েই মালয়েশিয়াকে বাগে পেয়েও তারাতে তো পারেইনি বাংলাদেশ। উল্টো হারের লজ্জায় ডুবতে হয়েছে।

অথচ ম্যাচে বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ ছিল পুরোটা সময়। ফরোয়ার্ডরা ঠিকঠাক ফিনিশ করতে পারেননি বলেই গোল পায়নি স্বাগতিকরা। এক্ষেত্রে কৃতিত্ব পাবে মালয়েশিয়ার নিরেট রক্ষণ। তাদের কোচ ঘর সামলে চেয়েছেন প্রতি-আক্রমনে খেলাতে। সফলও হয়েছেন। তবে খেয়ালি বাটলার সেটা করেননি বলেই নিকট ভবিষ্যত নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশের একের পর এক আক্রমণ সামলে মালয়েশিয়া অপেক্ষায় ছিল পাল্টা আক্রমণের। সেই সুযোগটা মালয়েশিয়া পায় ২৯ মিনিটে। নিজেদের অর্ধ্ব থেকে নুহাদফিনা মোফ ফিরদাউসের বাড়ানো বল ধরতে ছুটেছিলেন নুর আইনসিয়া বিন্তি মুরাদ। তার সঙ্গে গতিতে পারেননি রাইটব্যাক কোহাতি কিসকু। মাঝ মাঠ থেকে তাকে পেছনে ফেলে এগিয়েছিলেন নুর। বিপদ বুঝে বাংলাদেশ কিপার বক্সে ছেড়ে বের হয়ে এসে চেয়েছিলেন বল ক্লিয়ার করতে। তবে নুর রূপনাকে পরাস্ত করে ফাঁকা পোস্টে বল জমা করেন। প্রথমার্ধের বাকিটা সময়ও পাল্টা আক্রমণে নির্ভর করে খেলে মালয়েশিয়া। আর বাংলাদেশ সেভাবে আক্রমণের সুযোগ পায়নি বললে চলে।

বিরতির পর বাংলাদেশের একাদশে ৩ পরিবর্তন হয়। মুনকি আক্তার, শামসুন্নাহার জুনিয়র ও অভিষিক্ত সুলতানার জায়গায় মাঠে নামান স্বপ্না রানী, সাগরিকা ও তহুরা খাতুন। তাতে ভাগ্য ফেরেনি। বাংলাদেশের আক্রমণগুলো বারবার নস্যাৎ হয়েছে মালয়েশিয়ার রক্ষণে।
 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত