দুই জায়ান্টের ভরাডুবির রাতে নবীনের আগমনধ্বনি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৪ এএম

চোখধাঁধানো পারফরম্যান্সে তিনি মন জয় করেছেন কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। মাঠে নামলেই ক্যামেরাগুলো ঘুরে যায় তার দিকে। হাজারো দর্শক তার নাম ধরে চিৎকার করেন। তিনি লামিন ইয়ামাল। ১৮ বছর বয়সে বার্সেলোনার সবচেয়ে বড় তারকা না হলেও সবচেয়ে আলোচিত তারকা তো বটেই। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের মঞ্চে দেখা গেল ভিন্ন দৃশ্য। স্টামফোর্ড ব্রিজের সব আলো নিজের দিকে টেনে নিলেন এস্তেভাও। কাছাকাছি বয়স ও প্রতিভার কারণে চেলসি–বার্সা ম্যাচে আলোচনা ছিল এস্তেভাও ও ইয়ামালকে নিয়ে। কিন্তু ব্রাজিলের এই নবীন প্রতিভার কাছে হার মানলেন লিওনেল মেসির ছোঁয়ায় বেড়ে ওঠা স্প্যানিশ সেনসেশন। বিবর্ণ পারফরম্যান্সে রীতিমতো দুয়োধ্বনি শুনে ৮০ মিনিটে তাকে ছাড়তে হলো মাঠ। বার্সেলোনা হেরে গেল ৩-০ গোলে!

ম্যাচের তখন ৫৫ মিনিট। আত্মঘাতী গোলে ইতিমধ্যেই পিছিয়ে পড়েছে বার্সা। ওই মুহূর্তে দলীয় সমন্বয়ে দারুণভাবে বল আদান-প্রদান করে আক্রমণে ওঠে চেলসি। সেই ধারাবাহিকতায় ডান প্রান্তে বল পেয়ে যান এস্তেভাও। দ্রুতগতিতে ডিফেন্ডার পাও কুবারসিকে বোকা বানিয়ে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন। ছুটে আসা আরেক ডিফেন্ডার আলেহান্দ্রো বালদেকে দারুণ ড্রিবলিংয়ে নাস্তানাবুদ করে চোখধাঁধানো এক শটে বল পাঠিয়ে দেন জালে! স্টামফোর্ড ব্রিজের গ্যালারি দাঁড়িয়ে যায়। তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনির মাধ্যমে ব্রাজিলিয়ান কিশোরকে অভিনন্দিত করেন দর্শকরা। এস্তেভাও যেন দেখিয়ে দেন, কেন তাকে লিওনেল মেসির সঙ্গে তুলনা করে ‘মেসিনিও’ নামে ডাকা হয়। ইতিহাসের তৃতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনি চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের প্রথম তিন ম্যাচে প্রথম একাদশে নেমে প্রতিবারই গোল করলেন। এস্তেভাওয়ের আগে এই কীর্তি ছিল শুধু কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং আর্লিং হালান্ডের। চেলসির সাবেক তারকা প্যাট নেভিন তো বলেই দিয়েছেন, ‘এস্তেভাওয়ের ফুটওয়ার্ক, বুদ্ধিমত্তা, মুভমেন্ট দেখে মনে হয় যেন ফুটবল তার কাছে খুবই সহজ।’

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে চলতি মৌসুমে ১০ গোল করলেন এস্তেভাও। মঙ্গলবার রাতের গোলটিকে এস্তেভাওয়ের ক্যারিয়ারের এখন পর্যন্ত সেরা গোল হিসেবে বলছেন বিশ্লেষকরা। ম্যাচ শেষে ১৮ বছর বয়সী তারকা বলেন, ‘অনুভূতি প্রকাশ করার ভাষা নেই। এটা নিখুঁত একটা রাত ছিল। আমি সবকিছুর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ। সবকিছু দ্রুত হয়েছে। আমি বুঝে ওঠার আগেই যেন সবকিছু হয়ে গেল। শুধু একটু জায়গা খুঁজে পেলাম, কোনো মতে সেখান দিয়ে বেরিয়ে গোলটা করলাম। এটা ছিল আমার ক্যারিয়ারের জন্য খুবই বিশেষ একটি মুহূর্ত। আশা করি আরও অনেক গোল করব।’

ক্লাব ফুটবলে এস্তেভাওয়ের জয়জয়কার দেখে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি যখন ফুরফুরে মেজাজে আছেন, তখন ম্যানচেস্টার সিটির ম্যানেজার পেপ গার্দিওলার মাথায় হাত। সেটা হবে নাই বা কেন? নিয়মিত একাদশ থেকে ১০ পরিবর্তন এনে বায়ার লেভারকুজেনের বিপক্ষে দল সাজিয়েছেন। পয়েন্ট তালিকার ১৩ নম্বরে থাকা দলকে পাত্তা না দেওয়ার ফলও তিনি পেয়ে গেছেন হাতেনাতে। সিটি কোচ হিসেবে চ্যাম্পিয়নস লিগে এটা ছিল গার্দিওলার ১০০তম ম্যাচ। স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন ও আর্সেন ওয়েঙ্গারের পর কোনো ইংলিশ ক্লাবের তৃতীয় কোচ হিসেবে তিনি এই মাইলফলক ছুঁলেন। কিন্তু এমন ম্যাচেই যে তাকে চরম বিব্রত হতে হবে, সেটি কে জানত? ঘরের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটি হেরে যায় ২-০ গোলে। গোল দুটি করেন লেভারকুজেন অধিনায়ক আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো এবং চেক স্ট্রাইকার প্যাট্রিক শিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত