থাইল্যান্ডে বন্যা, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২২ এএম

থাইল্যান্ডের দক্ষিণাঞ্চলে টানা বর্ষণে কয়েক বছরের মধ্যে হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৩ জনে দাঁড়িয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিমানবাহী রণতরী প্রস্তুত করার কথা জানিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। অঞ্চলটিতে আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার দেশটির কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া ওই অঞ্চলের একটি হাসপাতাল থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন তারা। রয়টার্স জানিয়েছে, বন্যায় থাইল্যান্ডের নয়টি প্রদেশ ও প্রতিবেশী মালয়েশিয়ার আটটি প্রদেশ প্লাবিত হয়েছে। এতে উভয় দেশে বন্যাকবলিত প্রায় ৪৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। মালয়েশিয়া সীমান্তঘেঁষা ব্যবসায়িক শহর হাতইয়াইতে একদিনেই ৩৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষের মতে শহরটির ইতিহাসে ৩০০ বছরে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত এটি। শহর জুড়ে তোলা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যানবাহন ও বাড়িঘর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক বাসিন্দা নিজ নিজ বাড়ির ছাদে উঠে উদ্ধারকারীদের আশায় দিন কাটাচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের ১০টি প্রদেশ ভয়াবহ বৃষ্টিপাত হয়েছে। বন্যায় এখন পর্যন্ত ২০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মাত্র ১৩ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, বিপুলসংখ্যক মানুষ এখনো বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন এবং সহায়তা পাচ্ছেন না।

থাই সেনাবাহিনীকে এই দুর্যোগ মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ত্রাণসামগ্রী নিয়ে একটি বিমানবাহী রণতরী এবং ১৪টি নৌযানের বহর পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এসব নৌযানে থাকবে খাদ্য, পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী। পাশাপাশি, মোবাইল রান্নাঘর স্থাপন করা হবে, যেগুলো প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার খাবার সরবরাহ করতে সক্ষম। নৌবাহিনী জানায়, প্রয়োজন হলে বিমানবাহী রণতরীতে থাকা মেডিকেল টিমের মাধ্যমে জাহাজটিকে একটি ‘ভাসমান হাসপাতালে’ রূপান্তর করা হবে। উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নৌকা, উঁচু চাকা-যুক্ত ট্রাক (হাই-ক্লিয়ারেন্স ট্রাক) এবং জেট স্কি। সংখলা প্রদেশের গভর্নরের মতে, এসব যানবাহনের মাধ্যমে পানিবন্দি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। হাতইয়াই শহরটি এই সংখলা প্রদেশে অবস্থিত।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভা সংখলাকে দুর্যোগপূর্ণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে, যাতে জরুরি তহবিল ছাড়ের ব্যবস্থা করা যায়। তবে দুর্যোগের মধ্যে এখনো অসংখ্য মানুষ আটকা পড়ে রয়েছেন। অবিরাম বৃষ্টিপাতে থাইল্যান্ডের প্রতিবেশী দেশগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভিয়েতনামে এক সপ্তাহেই প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ জনে। আর মালয়েশিয়ায় ১৯ হাজারের বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দেশটির উত্তর সীমান্তবর্তী এলাকায় ১২৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত