বাটলারের চোখে ‘বিষাক্ত’ সাবিনারা ফুটসাল দলে!

আপডেট : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১২:৪৭ এএম

১৩ থেকে ২৬ জানুয়ারি থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে প্রথম সাফ (পুরুষ ও নারী) ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের ফুটসাল কমিটি এই টুর্নামেন্ট দুটিকে সামনে রেখে প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজাচ্ছে। এশিয়ান বাছাই খেলার সুবাদে আগে থেকেই তাদের হাতে আছে পুরুষ দল। এবার নারী দল গঠনের উদ্যোগ নিতেই ঢাকায় ৩০ নভেম্বর হবে উন্মুক্ত ট্রায়াল। চমকে যাওয়ার মতো খবর, বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে যাচ্ছেন পিটার বাটলারের রোষানলে পড়ে জাতীয় দলে খেলার সুযোগ হারানো কয়েকজন সিনিয়র ফুটবলার। সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণারানী সরকার, মাতসুশিমা সুমাইয়ারাসহ বেশ কয়েকজন যোগ দেবেন ইরানি ফুটসাল কোচ সাইদ খোদারাহামির ক্যাম্পে।

পিটার বাটলারের কাছে ওপরের প্রতিটি ফুটবলারের নাম ভীষণ ‘বিষাক্ত’। দলে সুযোগ দেওয়া দূরে থাক, ব্রিটিশ কোচ এদের নামই শুনতে চান না। আবার এদের নিয়ে প্রশ্ন করলে শত্রু বানিয়ে ফেলেন সাংবাদিকদেরও। তার অধীনে জাতীয় দলে ফেরার দরজা পাকাপাকি বন্ধ দেশকে টানা দুইবার সাফ জেতানো একঝাঁক ফুটবলারের। অভিযোগ আছে, বাটলার উঠেপড়ে লেগেছেন সেই ফুটবলারদের ফুটবল ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে। দেশের নারী ফুটবলে অসীম ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছেন তিনি। অভিযোগ আছে ডিসেম্বরে নেপালে বসতে যাওয়া সাফ ক্লাব কাপ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাওয়া নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাবের দল গঠনে অযাচিত হস্তক্ষেপ করেছেন কোচ। একেবারে সাধারণ মানের নাসরিন স্পোর্টিং ক্লাব গত বছর লিগ জিতেছে সাবিনা, মাসুরা, কৃষ্ণাদের কল্যাণে। বসুন্ধরা কিংস দল গঠন না করায় বিপাকে পড়া জাতীয় দলের একঝাঁক ফুটবলার শেষ মুহূর্তে নাসরিনে যোগ দেন। ক্লাবটিকে স্পন্সর পেতেও সহায়তা করেন তারা। গত লিগে চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আগামী ডিসেম্বরে সাফে আসরে খেলার কথা ছিল সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরাদেরও। এবারও যাতে ভালো স্পন্সর পাওয়া যায়, সে চেষ্টা গত কয়েক মাস ধরেই করছিলেন ফুটবলাররা। তবে বাগড়া দেন বাটলার। এশিয়ান কাপের ক্যাম্পে থাকা ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্ডা, মনিকা চাকমা, রূপনা চাকমাসহ গত বছর নাসরিনে খেলা ফুটবলারদের সাফের আসরে খেলার অনুমতি দেননি তিনি। পরে অনূর্ধ্ব-২০ ও অনূর্ধ্ব-১৭ দলের কিছু নবীন খেলোয়াড়কে দিয়ে নাসরিনের জন্য একটা দল গঠন করে দেন, যেখানে তিনি স্থান দেননি অধিনায়ক সাবিনাসহ সব সিনিয়র ফুটবলারদের।

এদিকে বাটলার ক্যাম্পে না রাখলেও বাফুফে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ঠিকই রেখেছেন সেই ফুটবলারদের। তবে সেটা শুধুই নামকাওয়াস্তে। ফুটবলারদের মুখবন্ধ রাখতেই এই চুক্তির নাটক। ক্যাম্পে ওঠার অনুমতি মেলেনি তাদের। ফলে ভুটান লিগ খেলে দেশে ফিরে আসা ফুটবলারদের নিজ নিজ বাসায় থাকতে হচ্ছে, হারাচ্ছেন নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ। এ অনিশ্চিত অবস্থায় ফুটসালের ক্যাম্পে ডাক পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তারা।

বাটলারের ঔদ্ধত্য দিন কে দিন বেড়েই চলছে। বারবার ভুল কৌশলে খেলিয়ে শেষ তিন ম্যাচে হারানোর দায় অনেকটাই তার ওপর বর্তায়। দলের ডিফেন্ডারদের সামর্থ্যে তোয়াক্কা না করেই খেলাচ্ছেন হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলে। আবার এগুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠলেই চটে গিয়ে গালমন্দ করছেন সাংবাদিকদের। কোচের এমন আচরণের পরও বাফুফের কর্তাদের নির্লিপ্ত আচরণ জন্ম দিচ্ছে নানা প্রশ্ন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত