বন্ধুকে কুপিয়ে হত্যার পর কুড়াল হাতে থানায় যুবক

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৫ এএম

ময়মনসিংহের ত্রিশালে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে মুনতাসির ফাহিম (২২) নামের এক যুবক ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছেন। তার বন্ধু অহিদুল ইসলাম অনিকের (২২) বিরুদ্ধে ফাহিমকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মুনতাসির ফাহিম ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা গ্রামের রেজাউল ইসলাম বাদলের ছেলে। অভিযুক্ত অহিদুল ইসলাম অনিক ত্রিশাল পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জহিরুল মন্ডলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে একটি চাইনিজ কুড়াল নিয়ে অনিক নামের এক যুবক থানায় হাজির হয়। এ সময় তিনি বলতে থাকেন, ‘ফাহিম আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে, তাই তাকে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছি।’ এমন কথা শুনে থানা পুলিশ অনিককে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিশাল সরকারি নজরুল একাডেমি স্কুল মাঠের পূর্ব পাশ থেকে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মুনতাসীর ফাহিমের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদল বলেন, ‘আমার ছেলে বিদেশে লেখাপড়া করে। কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ছুটিতে দেশে এসেছে। শনিবার (আজ) মালয়েশিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটিতে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। অনিক কেন আমার ছেলেকে হত্যা করল তা জানি না।’ এ সময় তিনি ছেলে হত্যার কঠিন বিচার দাবি করেন।

ত্রিশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, ‘অনিক ও ফাহিম দুই বন্ধু। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে রাতে দুজনের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে অনিক এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে।’

ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদ বলেন, ‘নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তার অনিককে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে।’

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গভীর রাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গলা কেটে ও গুলি করে আরেক যুবককে হত্যা করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলায় দুপক্ষের আধিপত্য নিয়ে গোলাগুলির পর রাতে তাকে হত্যা করা হয়। নিহত সাদ্দাম হোসেন সাদ্দাম (৩৭) শহরের কান্দিপাড়া মাইমলহাটি এলাকার মোস্তফা কামাল মস্তুর ছেলে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা রয়েছে।

নিহতের বাবা মোস্তফা কামাল মস্তু জানান, রাত দেড়টার দিকে তার ছেলেকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় বাবুল ও পলাশ। তাদের সঙ্গেই তার চলাফেরা ছিল। পরে খালপাড় মসজিদের কাছে তার ছেলেকে মেরে ফেলে রাখা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি আজহারুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কন্দিপাড়ার দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলেও জানান।

অন্যদিকে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য পেয়ারা খাতুনকে (৪০) শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী আব্দুল আলীমের বিরুদ্ধে।

পেয়ারা খাতুন হাবিবুল্লাহনগর ইউনিয়নের নারী সদস্য ছিলেন। খবর পেয়ে গতকাল সকালে রতনকান্দি  গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করেছে শাহজাদপুর থানা পুলিশ। নিহত পেয়ারা খাতুন হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রতনকান্দি গ্রামের হানিফ সরকারের মেয়ে ও হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীমের দ্বিতীয় স্ত্রী। পেয়ারা খাতুন এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে দেড় বছর আগে আব্দুল আলীমকে বিয়ে করেন।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আছলাম আলী বলেন, ‘নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

[প্রতিবেদনটি তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ও শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি] 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত