মসজিদ ভেঙে ভবন নির্মাণের চেষ্টা প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

আপডেট : ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০১:১৬ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ওয়াকফ করা জমিতে নির্মিত মসজিদ ভেঙে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করার কথা বলে ভাঙা শুরু করা হয়। পরে নিজের জমি দাবি করে বাণিজ্যিক বহুতল ভবন নির্মাণ করার কথা বলায় এলাকার মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মসজিদের জমি দখলমুক্ত করতে ওয়াকফ প্রশাসকসহ সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আবুল খায়ের শান্ত নামে এক ব্যক্তি।

মসজিদ ভাঙার প্রতিবাদ ও অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন মুসল্লিরা। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজের পর ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মৌচাক বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন সালু হাজী রোড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন, মুফতি বশির উল্লাহ, হাফেজ জাহের আলী, মাওলানা নূর হোসেন নুরানী, মুফতি আহসান উল্লাহ, মাওলানা কাশেম আল হোসাইন, মাওলানা জুনায়েদ, গণঅধিকার পরিষদের নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের এমপি প্রার্থী ওয়াহিদুর রহমান মিল্কি, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি প্রার্থী আরিফ ভূঁইয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী মোক্তার হোসেন প্রমুখ।

স্থানীয় মার্কাজুল আজিজ মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল আজিজ জানান, সিদ্ধিরগঞ্জের সালুহাজী রোড এলাকায় নিজের কেনা জমিতে তিন যুগ আগে বায়তুস সালাম জামে মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার শিল্পপতি প্রয়াত সালাউদ্দিন মিয়া। পরে তিনি ২০০২ সালের ৪ এপ্রিল মসজিদের জন্য ৭ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেন। ২০১৬ সালে সালাউদ্দিন মিয়ার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ম্যানেজ করে শহিদুল ইসলাম মসজিদের জমি নিজের বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর শহিদুল ইসলাম মসজিদের আশপাশের জামিতে দোকানপাট নির্মাণ করে ভাড়া দেন। সম্প্রতি মসজিদ ভাঙা শুরু করলে আমিসহ স্থানীয় লোকজন গিয়ে বাধা দিই।’

স্থানীয় সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ইকবাল হোসেন বলেন, ‘মসজিদের জমিটি ওয়াকফ এস্টেটভুক্ত হিসেবে নিবন্ধিত। মসজিদ ভাঙার খবর পেয়ে সরেজমিনে গিয়েছিলাম। মসজিদের জমি কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না।’ 

অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ক্রয়সূত্রে এ জমির মালিক। এখানে একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হবে। তবে নিচতলা ও দ্বিতীয় তলাটি মসজিদ হিসেবেই থাকবে। মসজিদের দেখাশোনা আমিই করব।’

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি শাহিনূর আলম বলেন, ‘মসজিদ ভেঙে ফেলার বিষয়ে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে একজন অভিযোগ করতে এসেছিল। তখন অন্য পক্ষও থানা আসেন। স্থানীয়ভাবে মিলে মসজিদ উন্নয়নের জন্য কাজ করতে উভয়পক্ষকে বলে দিয়েছি।’

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ওয়াকফ প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) নূর-ই-আলম ও উপ প্রশাসক (উপসচিব) মো. মেহেদী হাসানের মোবাইলফোনে একাধিকবার ফোন করলেও তারা রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত