চলতি শতকের প্রথম দশকে শো-বিজে পা রেখেই দর্শক মহলে নজর কেড়ে নেন মডেল-অভিনেত্রী সারিকা সাবরিন। কিন্তু ক্যারিয়ারের সুবর্ণ সময়ে আচমকাই গ্ল্যামার জগৎ থেকে নিজেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে রাখেন তিনি। বিয়ে, সংসারসহ ব্যক্তিগত নানা কারণে লম্বা একটা বিরতি কাটিয়ে আবার ফিরে আসেন প্রিয় প্রাঙ্গণে। কাজের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আবার আগের সেই ছন্দে ফেরার প্রচেষ্টা চালাতে থাকেন। বিশেষ করে করোনার পর থেকেই নতুন নতুন অধ্যায় শুরু হয় তার। ওই সময় বাংলাভিশনে প্রচার চলতি জনপ্রিয় টক-শো ‘আমার আমি’র উপস্থাপনা শুরু করেন সারিকা। সেটিই ছিল তার জীবনের প্রথম উপস্থাপনা। শুরুতে নার্ভাস থাকলেও সেটা কাটিয়ে উঠে বিগত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছেন বেশ দক্ষতার সঙ্গে।
তবে চলতি বছরের প্রায় পুরোটাই তিনি দেশের বাইরে কাটিয়েছেন। এই তো গত সপ্তাহে তিনি গ্রিসে তার স্বামী রাহীর সঙ্গে সময় কাটিয়ে এসেছেন। গ্রিসের রাজধানী এথেন্স ও সেখানকার সান্তরিনি দ্বীপে ঘুরে বেড়িয়েছেন তিনি। এর আগে ফ্রান্স, ইতালি ও নেদারল্যান্ডসেও ঘুরে বেড়িয়েছেন বলেও জানান এই তারকা। সারিকা জানান, যেহেতু বিগত তিন বছর তিনি নাটকে অভিনয় করছেন না এবং আপাতত শুধুই ‘আমার আমি’ নিয়ে ব্যস্ত, তাই এই সময়ের ফাঁকে ফাঁকে পৃথিবীর নানান প্রান্তটা নিজের মনের মতো করেই ঘুরে বেড়িয়েছেন। গ্রিস থেকে ঘুরে এসেই তিনি ‘আমার আমি’ ও তার একমাত্র কন্যার পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে উঠেছেন।
সারিকা বলেন, ‘আমার আমি’ অনুষ্ঠানটিই এখন নিয়মিত করছি। যেহেতু আমি কখনো উপস্থাপনা করিনি। যে কারণে উপস্থাপনার শুরুর সময়টা ছিল আমার জন্য চ্যালেঞ্জিং। তারপরেও এই সময়ে এসে উপস্থাপনা আমি দারুণ উপভোগ করছি। অনুষ্ঠানে এমন কিছু অতিথি আসছেন যাদের সঙ্গে কথা বলে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি, আবার এমন কিছু আমি নিজেও জানতে পারছি যা হয়তো ‘আমার আমি’র উপস্থাপনা না করলে জানার সুযোগ হতো না। তবে এই বছরটাতে আমি দেশের বাইরে খুউব ঘুরে বেড়িয়েছি। দেশের বাইরে যখন যেখানে গিয়েছি তখন প্রবাসী ভাই-বোনরা যে সম্মান করেন, ভালোবাসেন তার তুলনা হয় না। তারা বলেন, প্রবাসীদের জীবনে নাটকই তাদের রিল্যাক্সের বিষয়।’
সারিকাকে সর্বশেষ রায়হান রাফির ‘আমলনামা’ (ওটিটির কাজ) অভিনয়ে দেখা গেছে। এরই মধ্যে তিনি আব্দুল্লাহ সাদেরও একটি কাজ করেছেন। তবে সেটি ওয়েব সিরিজ নাকি ফিল্ম তা তিনি অবগত নন।
