ডিসিইউ অধ্যাদেশ জারির দাবিতে বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩১ এএম

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ডিসিইউ) অধ্যাদেশ জারির দাবিতে ঢাকা কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার দুপুর থেকে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধের কারণে মিরপুর সড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নিউমার্কেটসহ আশপাশের সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন অফিসযাত্রী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীরা। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বেলা সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীরা সড়ক থেকে সরে গেলে যানবাহন চলাচল আবার শুরু হয়।

এদিকে গতকাল বিকেলে ঢাকা কলেজের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি না করলে আগামী রবিবার থেকে শিক্ষা ভবনের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।

সাত কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় রূপান্তর আন্দোলনের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আব্দুর রহমান বলেন, আমরা চাই আজকে (বুধবার) অথবা আগামীকালের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে অধ্যাদেশ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করে অধ্যাদেশ ঘোষণা করা হোক। না হলে আগামী রবিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, এভাবে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত, অধ্যাদেশ আদায় হওয়ার আগপর্যন্ত আমরা ওইখানে প্রত্যেকটি শিক্ষার্থী অবস্থান করব।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ভাইদের প্রতি আহ্বান জানাই, এ রাষ্ট্রের এক মিনিট ক্ষতি হয়, সেটা আমরা চাইনি। যার ফলে আমরা রাস্তায় তেমন কোনো কর্মসূচি করিনি। সর্বশেষ যেহেতু আমাদের অভিভাবকরা সচিবালয়ে বসে থাকেন। কাজেই আমাদের কর্মসূচি হবে আমাদের অভিভাবকদের প্রাণের কাছে, হৃদয়ের কাছে শিক্ষা ভবন প্রাঙ্গণে। আমরা প্রত্যেক শিক্ষার্থী ৭ নভেম্বর বিগত দিনের মতো, যতক্ষণ পর্যন্ত অধ্যাদেশ না আসছে, ততক্ষণ অবস্থান করব। সেখানে প্রয়োজনে রান্নাবান্না হবে, তাও আমরা ওইখানেই থাকব।

এর আগে ঢাকা কলেজের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নাঈম হাওলাদার বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তিন দফা আলোচনার পরও অধ্যাদেশের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। এতে প্রায় দেড় লাখ শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থী মৌমি বলেন, আমরা সাত কলেজ বলে কিছু মানি না। আমাদের দাবি, আজকের মধ্যে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। ঢাকা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাহিম হোসেন বলেন, আমাদের এক দফা, অধ্যাদেশ। আমরা অধ্যাদেশের দাবিতে এখানে দাঁড়িয়েছি। আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা সরে যাব না।

বেলা ১১টায় ইডেন মহিলা কলেজকে শুধু নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা এবং কোনো বিভাগ বিলুপ্তি না করাসহ পাঁচ দফা দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একদল শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থী ছাড়াও এই কলেজের শিক্ষকরাও ব্যানার নিয়ে কলেজের মূল ফটকের সামনে দাঁড়ান। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির খসড়া অধ্যাদেশের স্কুলিং মডেল ও হাইব্রিড পদ্ধতি বাতিল করে ইডেনসহ ঢাকার সাত কলেজের স্বতন্ত্র কাঠামো বহাল রাখাসহ আরও কিছু দাবি জানিয়েছেন তারা। পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভকারী ইডেনের শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে ইডেনের দীর্ঘদিনের স্বতন্ত্রতা, নারীবান্ধব পরিবেশ ও অ্যাকাডেমিক ধারাবাহিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

দুপুরে মিছিল নিয়ে ইডেন কলেজের এই শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ঢাকা কলেজের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ দেখান। দুপুর সোয়া ১টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা মিছিল নিয়ে আজিমপুর মোড় ঘুরে এসে দুপুর ২টার পর ঢাকা কলেজের সামনের সড়ক অবরোধ করেন। প্রথমে ঢাকা কলেজের সামনের অংশের সড়ক অবরোধ করলেও বিকেল ৩টার পর তারা সড়কের দুই পাশ আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। তবে সাড়ে ৩টার পর তারা সড়ক থেকে সরে যান।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকার ৭ কলেজকে ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবিতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। পরে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির কথা থাকলেও তা না করেই ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ২৭ নভেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাসও শুরু করা হয়।

এ বিষয়ে গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত অনলাইনে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হয়। এরপর ২০ ও ২১ অক্টোবর এবং ১৭ নভেম্বর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠক হয় খসড়া আইন চূড়ান্ত করার উদ্দেশ্যে। তবু এখনো রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে প্রত্যাশিত অধ্যাদেশ জারি হয়নি। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা দ্রুত সমাধানের জন্য রাষ্ট্রপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত