ভোজ্য তেলের দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে সেটা সরকারের অনুমোদন ছাড়াই। এ কারণে যেসব কোম্পানি দাম বাড়িয়েছে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় বস্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউয়ের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে (জেডিপিসি) বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কারণ দর্শানোর নোটিশের কথা জানান উপদেষ্টা।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ব্যবসায়ীরা নিজেদের সিদ্ধান্তে তেলের দাম বাড়িয়েছেন। সরকার তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে। তাদের আলোচনার জন্যে ডাকা হয়েছে। তবে ঠিক কতগুলো কোম্পানিকে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে তা তিনি খোলাসা করেননি।
জানা গেছে, ১০ নভেম্বর বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স এন্ড বনষ্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ট্রেড এন্ড ট্যারিফ কমিশনকে ভোজ্যতেলের মূল্য পুননির্ধারণ করে একটি চিঠি দেয়। যে দাম তারা গত মাসের ২৪ তারিখ থেকে বাড়ানোর কথা জানায়। তাদের নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী, এক লিটারের বোতল ১৯৯ টাকা, ৫ লিটারের বোতল ৯৮৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের লিটার ১৭৯ টাকা এবং পাম ওয়েলের দাম ১৬৯ টাকা।
সম্প্রতি বাজারে একাধিক কোম্পানি ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয়। ব্যবসায়ীরা এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৮৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৯৮ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে। অর্থাৎ প্রতি লিটারে দাম বাড়ানো হয়েছে ৯ টাকা। একইভাবে ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ৯২২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে দাম বাড়ানো হয়েছে ৪৩ টাকা। এছাড়া দুই লিটারের বোতলের দামও ১৮ টাকা বাড়িয়ে ৩৯৬ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে।
এতেই চটেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। গত বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যে প্রক্রিয়ায় ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়েছেন এর আইনগত কোনো ভিত্তি নেই। তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার কিছুই জানতো না। কোম্পানিগুলো সামগ্রিকভাবে একত্রিত হয়ে এ কাজটি (ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানো) করেছে। সামগ্রিক একত্রিতভাবে করা এই কাজটি কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’
এ সময় তিনি কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে তেলের দাম বাড়ানো নিয়ে কয়েক মাস ধরেই চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এর আগে গত ১৩ অক্টোবর ব্যবসায়ীরা হুট করেই সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটারে ৬ টাকা, প্রতি লিটার পাম অয়েলের দাম ১৩ টাকা এবং খোলা সয়াবিনের দাম লিটারে ৩ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিনের দাম ২৩ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন।
