ফেনীতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একের পর এক চুরির ঘটনায় দেখা দিয়েছে আতঙ্ক। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে সদর উপজেলার কাজিরবাগ ইউনিয়নের গিল্লাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি করার সময় আরিফ উদ্দিন বাহার (৩৫) নামে এক চোর পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। গত এক মাসে জেলার ১৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ভবনগুলো পুরনো ও দরজা-জানালা ভাঙা। এ কারণে বাধা ছাড়াই বিদ্যালয়ে ঢুকতে পারছে চোরেরা। এ অবস্থায় বিদ্যালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা।
ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের মধ্য চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহানারা বেগম বলেন, ‘ক্লাস শেষে দরজা-জানালা বন্ধ করে চলে যাই। পরের দিন দরজা ভাঙা অবস্থায় চুরির বিষয়টি জানতে পেরে থানায় জিডি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়টির ভবনগুলো দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দরজা-জানালার দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এর আগেও পাশের স্কুলে একাধিকবার চুরি হয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
গত ১ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বরের মধ্যে ফেনী সদর উপজেলার মালীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ধলিয়া ইউনিয়নের মাছিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফরহাদনগর ইউনিয়নের সুবলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছনুয়া ইউনিয়নের তেতৈয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফাজিলপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফাজিলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং লেমুয়া ইউনিয়নের কেরোনিয়া শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষ ভেঙে প্রতিটি স্কুলের একটি করে ল্যাপটপ, প্রজেক্টর, রাইডার ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে। দক্ষিণ লেমুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তালা কেটে চারটি সিলিং ফ্যান ও পানির মোটর চুরি হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী থাকার পরেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলায় ১১৩টি প্রথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৫৪টিতে নৈশপ্রহরী রয়েছে।
সোনাগাজী উপজেলার ছাড়াইতকান্দি, রাঘবপুর ও আড়কাইম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মোট পাঁচটি বিদ্যালয় থেকে একইভাবে শিক্ষাসামগ্রী চুরি হয়েছে।
ফুলগাজী উপজেলার পূর্ব দরবারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলার চতুর্থ শ্রেণির কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় একটি পকেট গেটও ভেঙে নিয়ে যায় তারা। দাগনভূঞা উপজেলার রামনগর তাকিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেও ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর চুরি গেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা। গোহাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষক কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব মহিউদ্দিন খন্দকার বলেন, ‘এভাবে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় আমরা শঙ্কিত। যে কোনো দিন আমাদের স্কুলেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।’
ফেনী সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, ‘উপজেলার ১১৩টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ছয়টিতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে ৫৪টিতে প্রহরী ও কাম দপ্তরিও রয়েছে। তারপরও চুরির ঘটনা ঘটছে।’ গত ২৮ নভেম্বর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চুরি হওয়া বিদ্যালয়গুলোর তালিকা পাঠিয়ে অন্যান্য স্কুলের নিরাপত্তা জোরদার করতে অনুরোধ জানান তিনি।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বলেন, ‘উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী না থাকায় চুরির ঘটনা ঘটছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজিরবাগ চেকপোস্ট একজন চোরকে গতকাল আটক করেছে।’ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মদ বলেন, ‘কোনো বিদ্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটলে প্রধান শিক্ষক থানায় অভিযোগ দেবেন ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করবেন।’
