মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন দুই উপদেষ্টা

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৪৪ পিএম

বরিশালের বাবুগঞ্জে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিতব্য মীরগঞ্জ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রবিবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টায় সড়ক, সেতু ও জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফউজুল কবির খান এবং নৌপরিবহন ও শ্রম উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ এস এম সাখাওয়াত হোসেন যৌথভাবে ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন।

বরিশাল নগরী থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে বরিশাল-ফরিদপুর-ঢাকা জাতীয় মহাসড়কের রহমতপুর-বাবুগঞ্জ-মুলাদী-হিজলা সড়কে খরস্রোতা আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর এ সেতু নির্মিত হবে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে ১,০৭২ কোটি টাকা ব্যয়ে আগামী ৩০ মাসের মধ্যে প্রায় ১.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘কেবল স্টেড এক্সট্রা ডোজড’ প্রযুক্তির এ সেতু নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। খুব শিগগিরই চীনা প্রতিষ্ঠান ‘চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করর্পোরেশন’-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর নির্মাণকাজ শুরু হবে।

অনাড়ম্বর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়ক, সেতু ও জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফউজুল কবির খান বলেন, “মীরগঞ্জ সেতু বাবুগঞ্জ, মুলাদী ও হিজলা, এ তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটাবে। আমরা সর্বোচ্চ গতিতে কাজ শুরু করতে চেয়েছিলাম। আজ সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মেঘনা ও এর শাখানদীবেষ্টিত এ তিন উপজেলা এবার সড়কপথে সারা দেশের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে।”   

তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে সাবেক মন্ত্রীপরিষদ সচিব মাহবুবুর রহমান ও নৌপরিবহন উপদেষ্টা সাখাওয়াত হোসেনের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর এ সেতু বরিশালের তিন উপজেলার বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে।”  

তিনি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং সব রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি কামনা করেন যাতে নির্মাণকাজে কোনো বাধা না আসে। সড়ক উপদেষ্টার আন্তরিকতা ও সার্বক্ষণিক তদারকির প্রশংসা করে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা ফউজুল কবির খান জানান, ভোলার গ্যাস ভোলাতেই ব্যবহার হবে। সার কারখানাসহ শিল্প-কারখানায় সরবরাহ করা হবে, আবাসিক সংযোগ আর দেওয়া হবে না। পাইপলাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডে সংযোজনের পরিকল্পনা নেই।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানান, বরিশাল নদীবন্দর আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পোর্ট রোডের উন্নয়ন সম্পন্ন, নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণাধীন এবং ড্রেজিংসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

অনুষ্ঠানে বিভাগীয় কমিশনার মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর একনেক সভায় অনুমোদিত এ প্রকল্প ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে ১,৪৮৪ মিটার দীর্ঘ মূল সেতু, ৯৪০ মিটার ভায়াডাক্ট ও সাড়ে ৪ কিলোমিটার সংযোগ সড়কসহ পুরোপুরি সম্পন্ন করে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। দৃশ্যমান নকশায় এটি চট্টগ্রামের দ্বিতীয় কর্ণফুলী ও পায়রা সেতুর আদলে নির্মিত হবে।

এ সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং তিন উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত