স্মিথের হাতে মার খেয়ে কি বললেন আর্চার

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:১০ পিএম

অস্ট্রেলিয়া–ইংল্যান্ড গ্যাবা টেস্টে উত্তাপের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্টিভেন স্মিথ ও জোফ্রা আর্চার। দুজনের মুখোমুখি লড়াই আগেও ছিল রোমাঞ্চকর; এবারও তেমনটাই দেখা গেল। তবে ম্যাচ শেষে স্মিথ বিষয়টিকে হালকাভাবে নিয়ে বলেছেন, সবই ছিল ‘ভালো ঠাট্টা-মশকরা’।

মাত্র ৯ বলে ২৩ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার আট উইকেটের জয়ে দলকে পৌঁছে দেন স্মিথ। এই সময়েই আর্চারের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়িয়ে পড়েন তিনি। স্টাম্প মাইকে ধরা পড়ে দুজনের কথোপকথন।

২০১৯ লর্ডস টেস্টে অভিষেক ম্যাচে আর্চারের বাউন্সারে মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল স্মিথকে। কনকাশনের কারণে পরের টেস্টও খেলতে পারেননি। তবে পরিসংখ্যান বলছে, আর্চারই স্মিথকে সবচেয়ে বেশি ওভার বল করেও একবারও আউট করতে পারেননি। ব্রিসবেন টেস্টের পর এই সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩.২ ওভার।

৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বজ্রপাত–বৃষ্টির আশঙ্কা মাথায় রেখে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে আর্চারকে সামলান স্মিথ। আর্চারের প্রথম বলই চার মারেন, পরেরটিতে ব্যর্থ হন ‘আপার কাট’-এ। এখানেই শুরু বাকযুদ্ধ। আর্চার প্রশ্ন করেন, স্কোরবোর্ডে চাপ না থাকলে কেন এভাবে শট খেলছ। জবাবে স্মিথ বলেন, ‘যখন কিছুই হচ্ছে না, তখনই তুমি দ্রুত বল করো, চ্যাম্পিয়ন।’

পরক্ষণেই ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকসেরও কিছুটা উত্তেজনা দেখা যায় জেক ওয়েদারেল্ডকে লক্ষ্য করে, এতে হস্তক্ষেপ করতে হয় আম্পায়ার শরফুদ্দৌলাকে।

চ্যানেল সেভেনের বিশ্লেষণে রিকি পন্টিং বলেন, ‘দ্বিতীয় টেস্ট প্রায় শেষ যখন, তখন আর্চার চাঙ্গা হচ্ছে। অনেক দেরি হয়ে গেছে, ছয় দিন তো পার করে দিয়েছ।’

বাকযুদ্ধের পর স্মিথ আর্চারের করা পরপর দুই বল বাউন্ডারিতে পাঠান। প্রথমটা টপ–এজ হয়ে চার, পরেরটা দারুণ পুলে ছয়। এরপর আর্চারকে আর আক্রমণে দেখা যায়নি। গাস অ্যাটকিনসনকে টানা ছয়ে উড়িয়ে ম্যাচ শেষ করেন স্মিথ, ওয়েদারেল্ডকে নিয়ে উদ্দাম উদযাপনও করেন।

ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করলে স্মিথ প্রথমে ভান করেন, যেন আর্চারের সঙ্গে কোনো ইতিহাস নেই। লর্ডসের আঘাতের কথা মনে করিয়ে দিলে হাসতে হাসতে বলেন, ‘ও ভালো গতিতে বল করছিল। কী বলেছি বা কী শুনেছি, তার কিছুই মনে নেই। আর এটা আপনাদের জানার বিষয়ও নয়। মাঠেই থাকুক।’

স্মিথ জানান, পেছনের দিকের ছোট বাউন্ডারি দেখে আক্রমণাত্মক হওয়াই ছিল তার ‘হাই-পরসেন্টেজ’ সিদ্ধান্ত। সঙ্গে ছিল ঝড়ের আশঙ্কাও। ‘ভাবলাম, দু-একটা তুলে মারলে কাজ হয়ে যাবে। সৌভাগ্যক্রমে কয়েকবার ব্যাটের মাঝেই লেগেছে।’

এই জয়ে সিরিজে ২–০ তে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। স্মিথ বলেন, ‘দারুণ দুই সপ্তাহ কেটেছে। আমরা খেলেছি অসাধারণ ক্রিকেট, সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

অন্যদিকে আর্চারের জন্য ম্যাচটা ছিল হতাশার। ৩০ ওভার বোলিং করে পেয়েছেন মাত্র এক উইকেট, সঙ্গে সতীর্থদের হাতে কয়েকটি সহজ ক্যাচও ফসকে গেছে। যদিও ইংল্যান্ড কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর্চারের ওপর আস্থা রেখে বলেন, সিরিজে তার বড় ভূমিকা এখনও বাকি।

ম্যাককালামের ভাষায়, ‘জোফ্রার গতি ওঠানামা করতে পারে, এতে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে সময় এলে তাকে গতি বাড়াতেই হবে। এই দেশে এসে মনোবল হারালে চলবে না, নিজেকে করুণা করলে চলবে না। অস্ট্রেলিয়া সফরে কাঁচের চোয়াল নিয়ে নামা যাবে না। সামনের নয় দিনে নিজেদের প্রস্তুত করাই কাজ।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত