ট্রাজেডিটের ২০ বছর: তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ নেত্রকোনা 

আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:৫০ পিএম

নেত্রকোনায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় আজ ২০ বছর। সেদিনের হামলায় প্রাণ হারায় আটটি তাজা প্রাণ। যাদের রক্তে ভেসে যায় নেত্রকোনার অজহর রোড। নিহতদের সেই স্মৃতি ধরে রেখে প্রতিবারের মতো এবারও তিন মিনিটের জন্য স্তব্ধ নেত্রকোনা। যানবাহন কিংবা মানুষ সবাই যে যার জায়গায় দাঁড়িয়ে নীরবতায় স্মরণ করেন নিহতদের।

আজ সোমবার সকালে শহরের অজহর রোডের উদীচী কার্যালয় ও শতদল গোষ্ঠীর সামনে ট্রাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সড়কে দাঁড়িয়ে তিন মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এর আগে স্মৃতিচারণ ও গণসংগীত পরিবেশন করে স্থানীয় শিল্পীরা।

২০০৫ সালে শহরের অজহর রোডে উদীচী কার্যালয়ে ৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা মুক্ত দিবস উপলক্ষে গণসংগীতের রিহার্সাল চলছিল। এ সময় উদীচী এবং শতদল শিল্পী গোষ্ঠীর সামনে বোমা সদৃশ একটি বস্তু দেখে প্রশাসনসহ রাজনৈতিক সামাজির সাংস্কৃতিক শত মানুষ একত্র হতে থাকে। ওই মুহূর্তেই উগ্রবাদী গোষ্ঠীর আত্মঘাতী বোমা হামলায় মোট আটজন নিহত হন। আহন হন অর্ধশতাধিক। এরপর থেকেই নিহদের স্মরণে ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনা ট্রাজেডি দিবস পালিত হয়ে আসছে। দিবসটিতে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের বিরুদ্ধে শহরবাসী একাট্টা হয়ে স্তব্ধ নেত্রকোনা পালন করে আসছে। প্রতিবছর এই দিনে ট্রাজেডি স্মৃতিস্তম্ভে সকল সাংস্কৃতিক সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়। এ সময় প্রতিবাদী সংগীত পরিবেশন করে।

সেদিনের বোমা হামলায় নিহতরা হলেন, উদীচীর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খাজা হায়দার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্তা পাল শেলি, ম্টোর মেকানিক যাদব দাস, রানী আক্তার, ভিক্ষুক জয়নাল, আফতাব উদ্দিন, রইছ মিয়া ও আত্মঘাতি কিশোর। আহত হয়েছিলেন সানওয়ার হোসেন ভূইয়া, মাসুদুর রহমান ভুট্টুসহ অর্ধশতাধিক। তাদের অনেকের পরিবারের ভরণপোষণ চলতো একজনের আয় দিয়ে।

এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে জেএমবি প্রধান শায়খ আব্দুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাই, সামরিক শাখার প্রধান আতাউর রহমান সানি, জেএমবি কমান্ডার আসাদুজ্জামান, সালাউদ্দিন এবং ইউনূসসহ ৮ জনকে আসামি করে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে।

এরইমধ্যে ঢাকা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আদালত-২ নেত্রকোনায় বোমা হামলা মামলার ৭ আসামিকে ফাঁসি ও বাংলা ভাইয়ের স্ত্রীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এরপর থেকে দিবসটিতে শহীদদের স্মরণে সন্ত্রাস, সাম্প্রদায়িক মৌলবাদের বিরুদ্ধে শহরবাসী একাট্টা হয়ে স্তব্ধ নেত্রকোনা পালন করে আসছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে মদদদাতাদের গেল ১৯ বছরেও শনাক্ত করতে পারেনি।

উদীচীর সাবেক সহ-সভাপতি ও হামলায় আহতদের একজন তুষার কান্তি রায় বলেন, তদন্ত রিপোর্টে ত্রুটি ছিল। পুলিশ রিপোর্টটি সন্তোষজনক হয়নি। সেখানে স্থানীয় দোসর কারা ছিল সেটি বলা হয়নি। এমনকি তদন্তেও ওঠে আসেনি। এটি নতুন করে তদন্তের মাধ্যমে কারা স্থানীয়ভাবে জড়িত ছিল, কাদের মদদপুষ্ট হয়ে এ হামলা চালিয়ে ছিল আমরা সে বিষয়ে তদন্তের দাবি জানাই। এই অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এটি আমাদের দাবি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত