আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ইসির কাছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেছেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির গুরুতর অবনতি হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, কী কী আশঙ্কা আছে, ইসি কী পদক্ষেপ নিচ্ছে সেটি বুঝতে আমরা ইসিতে এসেছি। তবে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড সম্পর্কে নিশ্চিত করতে পারেনি।’
গতকাল সোমবার রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ সময় দলটির ছয় সদস্যের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘প্রশাসনিক অবস্থার কিছু তথ্য-প্রমাণ ওনাদের (ইসি) সামনে তুলে ধরে বলেছি, এই অবস্থাকে আমরা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড হিসেবে গ্রহণ করব না। সুনির্দিষ্টভাবে আপনাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের কাছেই সব এখতিয়ার চলে আসবে প্রশাসনকে যথাযথভাবে নিরপেক্ষ রাখা জরুরি।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান প্রশাসনিক পরিবেশ এখনো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নয়। তফসিল ঘোষণার পর কোনো কর্মকর্তা খুব নগ্নভাবে তার নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করলে আমরা এগুলো আপনাদের নজরে আনব। ওনারা কথা দিয়েছেন, সুনির্দিষ্টভাবে আমাদের নোটিস আনলে তারা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার যে মাঝেমধ্যে খুব গুরুতর অবনতি আমরা দেখছি একটা দলের ওপর অন্য দলের হামলা, এমনকি নারীরাও গণসংযোগে গিয়ে নির্যাতিত-নিপীড়িত হচ্ছেন, হামলার শিকার হচ্ছেন এ পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনই সিরিয়াস না হলে তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কতটা সুষ্ঠু হবে, কী কী আশঙ্কা আছে, কীভাবে তারা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন এসব বিষয় বুঝতেই আমরা এসেছি।’
গোলাম পরোয়ার বলেন, ‘অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের যে অভিযান, সেটিকে আমরা খুব কার্যকর দেখছি না। ৫ আগস্টের পর থেকে সারা দেশের থানাগুলো থেকে লুটপাট হওয়া অস্ত্রের কতটুকু উদ্ধার হলো, অবৈধ অস্ত্রধারীরা যারা নির্বাচন বিঘ্নিত করতে পারে বা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে তাদের গ্রেপ্তার অভিযানের ব্যাপারেও আমাদের আলোচনার বিষয় ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ওনারা বলেছেন, এটা একটি ব্যয়বহুল ইস্যু। এ ব্যাপারে সরকারের প্রচুর অর্থ বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়। আমরা বলেছি, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য এর চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করা প্রয়োজন। অনেক ডোনার এজেন্সি বা ডোনার দেশের কাছ থেকেও সহযোগিতা চাওয়া যেতে পারে। তবে কমিশন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।’
সরকারের ঘোষিত সময়ে নির্বাচন নিয়ে কোনো আশঙ্কা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা আমরা এখন অনুভব করছি না। আমরা সরকারের কথার ওপর আস্থা রাখতে চাই। ইসি জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণা করবে। জাতি মনে করছিল, তাদের কমিটমেন্ট অনুযায়ী নির্বাচনের তফসিলটা হয়তো ইতিমধ্যে ঘোষণা হবে।’
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, নির্দিষ্ট সময় নির্বাচনটা হবে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাই হলো এবারের নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে।’
