চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।
গতকাল সোমবার সচিবালয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক বছরের অর্জন ও সাফল্য নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
তিনি বলেন, আমি আশ্চর্য হই যখন আপনারা (সাংবাদিক) এগুলো পত্রিকায় দেন অথচ একবারও জিজ্ঞাসা করেন না যে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রতিদিন কত অবৈধ টাকা ওঠে। আমি একটা রাফ ফিগার দিতে পারি। মিনিমাম কত টাকা ওঠে।
উপদেষ্টা বলেন, প্রত্যেকটি জায়গায় চাঁদাবাজি। দিনের পর দিন ভেতরে ট্রাক দাঁড়ানো, এটা দাঁড়ানোর জায়গা না। কেউ না কেউ এখান থেকে চাঁদা নিচ্ছে। ওখান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে, বাইরে গেছে, সেখান থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে। আপনারা নিজেরাই বলেন। যিনি চট্টগ্রামের মেয়র হন উনি চট্টগ্রামের মেয়র কম, বন্দরের রক্ষক বেশি। চট্টগ্রাম বন্দরটা হচ্ছে সোনার ডিম পাড়া মুরগির মতো। তাড়াতাড়ি এটা জবাই করে তাড়াতাড়ি বের করে খেয়ে ফেলো।
সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, প্রথমে বলা হলো অমুক চলে গেলে তো ভাই বন্দর (চট্টগ্রাম বন্দর) ডাউন হয়ে যাবে। আমি নিজেই ভয় পেয়ে গেলাম কী করব? মিটিং করলাম, বললাম-পাঁচ শতাংশ কম হোক, সেটাতেও রাজি। যেখানে দিনের পর দিন লাগত এখন সেখানে এক দিন থেকে দেড় দিন, তারও কম সময় লাগছে। ইফিশিয়েন্সি বাড়ছে। আপনারা ব্যবসায়ীদের জিজ্ঞাসা করেন না কেন?
উপদেষ্টা বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ দূর করতে গত এক বছর তাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে মন্ত্রণালয়। বড় কনস্ট্রাকশন ফার্মগুলো শ্রম আইনলঙ্ঘন করলে সরকারি কোনো কাজ পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
দেশের রাজনৈতিক আবহ ও নির্বাচন ইস্যু নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, দেশের মানুষ ওয়ান ইলেভেনও দেখেছে। এখনতো রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দাঙ্গা হচ্ছে না। সরকার ও রাজনৈতিক দল প্রতিপক্ষ নয়। দলগুলোর মধ্যে কথার বিরোধ থাকবেই। জনগণের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আস্থার সংকট আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা জানান, অনেক বছর দেশে নির্বাচন হয়নি। তাই হয়তো এমনটা মনে হতে পারে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সার্বিক প্রস্তুতি চলছেএবং নির্ধারিত সময়েই ভোট হবে। এ নিয়ে কোনো সংশয় নেই।
