সম্প্রতি দেশের শীর্ষ পেঁয়াজ উৎপানকারী জেলা পাবনাতেও পেঁয়াজের বাজারে অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তবে বিদেশ থেকে আমদানি ও নতুন ওঠা মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় পাবনায় কমতে শুরু করেছে পেঁয়াজের দাম। গতকাল সোমবার পাবনার বড় বাজার, মাসুম বাজার ও লাইব্রেরি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি পুরনো পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকায়। আর মুড়িকাটা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৭৫ টাকায়। যা শুক্রবারে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা পর্যন্ত। আর পুরনো পেঁয়াজের দর ছিল ১৩০-১৪০ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত শুক্রবারের আগে পাবনার বাজারগুলোতে পেঁয়াজের দর অনেকটাই স্বাভাবিক ছিল-খুচরা বাজারে পুরনো পেঁয়াজ প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রয় হচ্ছিল। তবে শুক্রবার থেকে বাজার ভেদে প্রতি কেজিতে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যায় প্রায় ১০-৪০ টাকা। তবে আমদানির খবরে দাম আবার স্বাভাবিক হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, সীমিত পর্যায়ে আমদানি বাজার স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হলেও অধিক আমদানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন কৃষকরা। বড় বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, দাম কমায় ১৪০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়েছে সর্বোচ্চ ১২৫ টাকায়। এতে আমরা ছোট ব্যবসায়ীরা লোকসান পড়েছি। আরেক ব্যবসায়ী মকবুল বলেন, এখন মুড়িকাটা পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় দাম কমছে। তবে দাম এভাবে ওঠানামা করতে থাকলে কৃষকরা লোকসানে পড়বে। তাই এসব কিছু বিবেচনায় রেখে বাজার নিয়ন্ত্রণ করা দরকার। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন অধিকাংশ ক্রেতাই। তাদের দাবি, বাজারকে সিন্ডিকেটমুক্ত করে কৃষকদের বাঁচিয়ে সহনীয় দাম নির্ধারণ করতে হবে। ক্রেতা ছদরুদ্দিন মোল্লা বলেন, বাজারে শৃঙ্খলা থাকা খুবই জরুরি। অস্বাভাবিক হারে দাম বাড়া কিংবা কমার চেয়ে দামটা যেন সহনীয় পর্যায়ে থাকে সেটিই আমরা চাই।
এদিকে কৃষকরা বলছেন, গত বছর মুড়িকাটা পেঁয়াজ আবাদে বিঘায় প্রতি কেউ কেউ ৭০-৮০ হাজার টাকাও লোকসান গুনেছে। তাদের দাবি, বাজারে ওঠার সময়ই বিদেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি করায় বাজার একেবারে কমে যায়। এ ক্ষেত্রে কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে আমদানি ও বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবি তাদের। এ ব্যাপারে পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) মো. রাফিউল ইসলাম বলেন, বাজার স্বাভাবিক রাখতে খুবই সীমিত আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে কৃষকদের চিন্তার কারণ নেই। এবার তাদের আবাদ ব্যয় কম পড়েছে। সবমিলিয়ে ২ হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দর পেলে তারা লাভবান হবেন। আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। এ ছাড়া বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের সহায়তায় আমরা বাজার মনিটরিংও করছি।
