কোমর ব্যথা এখনকার সময়ে নীরব মহামারীর রূপ নিয়েছে। অফিসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে কাজ করা, মোবাইল ও ল্যাপটপের অতিরিক্ত ব্যবহার, ভুল শারীরিক ভঙ্গি, ব্যায়ামের অভাব, ওজন বৃদ্ধি, মানসিক চাপ, এসব কারণেই কোমর ব্যথার সমস্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এমনকি এখন শুধু বয়স্করা নয়, ২৫ থেকে ৪৫ বছরের কর্মজীবী মানুষও বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বেশিরভাগ মানুষ প্রথমে ব্যথানাশক ওষুধ অথবা বেড রেস্টের আশ্রয় নেন। যদিও এগুলো সাময়িক স্বস্তি দেয়, কিন্তু ব্যথার মূল কারণ দূর করে না। বরং দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনে কিডনি, পাকস্থলী ও অন্যান্য অঙ্গে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তাই কোমর ব্যথার স্থায়ী, নিরাপদ ও বৈজ্ঞানিক সমাধান হিসেবে ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। ফিজিওথেরাপির প্রধান লক্ষ্য শুধু ব্যথা কমানো নয়; ব্যথার উৎস চিহ্নিত করে সঠিক উপায়ে সংশোধন করা। কোমর ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো মাংসপেশির দুর্বলতা, ডিস্কের ওপর চাপ বৃদ্ধি, জয়েন্টের স্টিফনেস, স্নায়ুর ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং ভুল ভঙ্গির কারণে সৃষ্ট ভারসাম্যহীনতা। দক্ষ ফিজিওথেরাপিস্ট এসব কারণ নির্ণয় করে ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করেন।
চিকিৎসা পদ্ধতিতে থাকে স্ট্রেচিং, কোর মাংসপেশি শক্তিশালী করা, লুম্বার জয়েন্ট মোবিলাইজেশন, থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ, ম্যানুয়াল থেরাপি ও আধুনিক ইলেকট্রোথেরাপি (যেমন TENS, Ultra Sound Therapy, LASER Therapy, SWD, IFT)। এগুলো ব্যথা কমায়, প্রদাহ হ্রাস করে, টিস্যুর রক্তসঞ্চালন বাডায় এবং স্নায়ুর চাপ মুক্ত করে। ফলে ধীরে ধীরে রোগী নিজের স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজে ফিরে যেতে সক্ষম হন।
লাম্বার ডিস্ক প্রোল্যাপ্স (L4-L5, L5-S1), সায়াটিকা, মাংসপেশির স্পাজম, লিগামেন্ট ইনজুরি, ফ্যাসেট জয়েন্ট সমস্যা এসব অবস্থায় ফিজিওথেরাপি অত্যন্ত কার্যকর। অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত থেরাপি ও ব্যায়াম মিলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও এড়ানো যায়। এ ছাড়া ফিজিওথেরাপি রোগীকে শেখায় কীভাবে সঠিক ভঙ্গিতে বসতে, দাঁড়াতে, হাঁটতে, ওজন তুলতে ও অফিসে কাজ করতে হয়। আর্গানমিক পরামর্শ যেমন চেয়ার- টেবিলের উচ্চতা, ল্যাপটপের অবস্থান, ঘুমানোর গদি, গাড়ি চালানোর ভঙ্গি এসব পরিবর্তন দীর্ঘমেয়াদে ব্যথা প্রতিরোধ করে।
কোমর ব্যথা উপেক্ষা করা উচিত নয়। অনেক সময় ছোট একটি সমস্যা বড় আকার ধারণ করতে পারে। তাই ওষুধের ওপর অতিনির্ভরশীল না হয়ে একজন অভিজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিয়মিত ব্যায়াম, সঠিক ভঙ্গি এবং প্রয়োজনীয় থেরাপি এসব মিলে অধিকাংশ মানুষই ব্যথামুক্ত, সক্রিয় ও কর্মক্ষম জীবন ফিরে পেতে পারেন।
