শুরু হলো সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়ের যাত্রা

আপডেট : ১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৮:২১ এএম

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের প্রশাসনিক ভবন-৪-এ সচিবালয়ের উদ্বোধন করেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

উদ্বোধনের সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্টের বিচারক এবং আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুপ্রিম কোর্টের আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার জন্য গত ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সবকিছুর দায়িত্ব এখন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের। এ দায়িত্ব এতদিন নির্বাহী বিভাগ তথা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে ছিল। গত ২০ নভেম্বর অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছিল।

গতকাল উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ প্রকৃত অর্থেই এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে আমরা নিজেদের খুঁজে পাচ্ছি। আমরা প্রত্যেকেই কোনো না কোনোভাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতায় এবং স্টেকহোল্ডার হিসেবে এ সচিবালয় প্রাপ্ত হয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘২৬ বছরের যাত্রা। কিন্তু এ যাত্রা এখানেই শেষ হলো না। এখন আমাদের সবচেয়ে বড় যে কাজ করতে হবে তা হলো সচিবালয়ের কার্যক্রমের স্থায়িত্ব বজায় রাখা। সামনের মাস ও বছরগুলোই বলে দেবে সে কাজ আমরা কত সাফল্যের সঙ্গে করতে পারব।’

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার মধ্যে থেকেই বিচারকার্য পরিচালনা করতে হবে, বিচারব্যবস্থার দেখভাল করতে হবে। সবকিছু (পৃথক সচিবালয়সংশ্লিষ্ট সবকিছু) এসেছে সুপ্রিম কোর্টের কাছে। এসবের সাফল্য যতটা আমাদের হবে, ব্যর্থতাও কিন্তু আমাদেরই হবে। আগামীতে যে নির্বাচিত সরকার আসবে তাদের তো বটেই এবং আমাদের যত স্টেকহোল্ডার আছে তাদের সবাইকে এ সচিবালয়ের ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন, গণতন্ত্রকে বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে যেন এ ধারাবাহিকতা অটুট থাকে।’

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমেরও ভূমিকা আছে উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।

আইন ও বিচার উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক দিন। আজ সুপ্রিম কোর্টের স্বতন্ত্র সচিবালয় স্থাপন করা হলো।’ তিনি বলেন, ‘এ সচিবালয়-সংক্রান্ত আইন করার জন্য গত দুই-তিন দশক চেষ্টা করা হয়েছে; কিন্তু করা সম্ভব হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আইনটি পাস হয়েছে। আমাদের প্রধান বিচারপতিও প্রথম থেকেই উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এটা (সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়) প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলাদেশের মানুষের লাভ কী? লাভটা হচ্ছে, আগে অধস্তন আদালতের ওপর রাজনৈতিক সরকারের মন্ত্রীরা, বিশেষ করে আইনমন্ত্রী, অনেক ধরনের খবরদারি করতেন; বিচারকদের পোস্টিং, পদোন্নতি, বদলি সবকিছু রাজনৈতিক প্রভাবে নিয়ন্ত্রিত হতো। এখন রাজনৈতিক প্রভাব থাকবে না। এখন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে যে সচিবালয় আছে, সেখানে সব ন্যস্ত করা হয়েছে। আমরা বিশ^াস করি, এ সচিবালয় বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বিরাট ভূমিকা রাখবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত