ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন সদস্যদের চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাধা কেটেছে। ক্যাটাগরি দুটির নবায়নকৃত সদস্যদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের নির্দেশনা-সংবলিত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের স্মারকের ওপর এর আগে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ ও রুল খারিজ হয়ে গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল খারিজের আদেশ দেন। বিবাদীপক্ষের মামলা পরিচালনাকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা খান দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, এ আদেশের পর উল্লিখিত দুই ক্যাটাগরির সদস্যদের চট্টগ্রাম চেম্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো বাধা নেই।
এর আগে গত ২৩ অক্টোবর হারবিস কনভার্টিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ বেলালের করা এক রিট পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ নবায়নকৃতদের চেম্বার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা-সংবলিত গত ৪ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ট্রেড অর্গানাইজেশন-১-এর উপসচিব কর্তৃক জারি করা স্মারকের কার্যকারিতা স্থগিত করেন। একই আদেশে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করে আদালত। নির্বাচনের বাকি কার্যক্রম যথানিয়মে চলবে বলেও ওই আদেশে আদালত উল্লেখ করে।
জানা গেছে, হাইকোর্ট থেকে ২৩ অক্টোবরের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার জজ আদালতে আপিল করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত ৩০ অক্টোবর আপিল বিভাগের ফুল বেঞ্চের ওপর শুনানি হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ চেম্বার নির্বাচনের ওপর দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দেয় এবং এ সময়ের মধ্যে ‘টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ ক্যাটাগরির সমস্যা নিরসনের জন্য হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত একই সঙ্গে টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের প্রতিনিধিদের মামলায় বিবাদী করারও নির্দেশ দেয়।
বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফারজানা খান জানান, আপিল বিভাগের নির্দেশ অনুযায়ী উল্লিখিত ক্যাটাগরি দুটির প্রতিনিধিদেরও মামলায় বিবাদী করা হয়।
তথ্যমতে, গত ১ নভেম্বর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ নির্ধারিত ছিল। চেম্বারের সংঘবিধি অনুযায়ী অর্ডিনারি গ্রুপ, অ্যাসোসিয়েট গ্রুপ, ট্রেড গ্রুপ ও টাউন অ্যাসোসিয়েশন এই চারটি ক্যাটাগরি থেকে ২৪ জন পরিচালক নিয়ে চেম্বার পরিচালনা পর্ষদ গঠন হওয়ার কথা থাকলেও টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের সদস্যদের ভোটাধিকার নিয়ে আপত্তি তুলে একটি মহল এবং শেষ পর্যন্ত তা দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক মনোয়ারা বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাইকোর্টের আদেশ হয়েছে বলে ওভার টেলিফোন শুনেছি। এ-সংক্রান্ত আদালতের কাগজপত্র হাতে আসার পর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
