দিনাজপুরের কাহারোলে ধান ক্ষেত থেকে তৃতীয় লিঙ্গের কামাল হোসেন ওরফে পায়েলের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে দিনাজপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) ও কাহারোল থানা পুলিশ।
পুলিশ জানায়, দাদনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য পায়েলকে হত্যা করে শ্রাবন রায় নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবক। শ্রাবন রায় বোচাগঞ্জ উপজেলার ইশানিয়া গ্রামের বিরেন্দ্র রায়ের ছেলে। নবমুসলিম শ্রাবন রায়ের বর্তমান নাম ইউসুফ।
নিহত কামাল হোসেন ওরফে পায়েল (৪৫) উপজেলার ডহচি গ্রামের বাসিন্দা।
শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, মামলা হওয়ার পর থেকে জেলা গোয়েন্দা শাখার সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও কাহারোল থানা তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ১০ ডিসেম্বর শ্রাবন রায়কে দিনাজপুর সদর উপজেলা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শ্রাবন রায় হত্যার সাথে জড়িত রয়েছে বলে স্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, গ্রেপ্তার শ্রাবন রায় স্বীকারোক্তি বলেছেন পায়েল নিজ এলাকাসহ পাশেরপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ দাদনের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। এই ব্যবসার টাকা উঠানোর জন্য তার একটি মোটরসাইকেল ছিল এবং মোটরসাইকেলটি চালানোর জন্য দুইজন চালক ছিলেন। এদিকে তার সঙ্গে পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েকজনের সুসম্পর্ক তৈরি হয়। তারা বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে সুদে টাকা নিত। একসময় তারা সবাই মিলে পায়েলের টাকা আত্মসাতের পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৭ নভেম্বর পায়েলকে হত্যার উদ্দেশ্যে ডেকে নিয়ে আসে এবং মোটরসাইকেলে কামোরহাট এলাকায় নেওয়ার কথা বলে রওনা হয়। পথে ফাঁকা জায়গায় আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা আসামি শ্রাবন রায় এক পর্যায়ে পায়েলের কাঁধে থাকা ব্যাগের বেল্ট দিয়ে তার গলা চেপে ধরে। পরে অন্যান্য সহযোগীরা পায়েলের পা চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী আম বাগানের ভেতরে নিয়ে হত্যার পর তার ব্যাগে থাকা ২০ হাজার টাকা, মোটরসাইকেল, ঘরে চাবি ও মোবাইল নিয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় ১০ নভেম্বর নিহতের ভাই বাবুল মিয়া বাদী হয়ে কাহারোল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তিনি জানান, আসামি শ্রাবন রায়কে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশ কাজ করছে।
