অর্থনৈতিক নীতি এবং দুর্নীতি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা টানা বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করেছে বুলগেরিয়ার সরকার। আগামী ১ জানুয়ারি দেশটির ইউরোজোনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে গত বৃহস্পতিবার সরকারের পতন ঘটল। পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হওয়ার কয়েক মিনিট আগে টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে পদত্যাগের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী রোজেন জেলিয়াজকভ। ক্ষমতায় আসার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ করলেন তিনি। নিয়ম অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট রুমেন রাদেব এখন পার্লামেন্টে প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোকে নতুন সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দলগুলোর ঐকমত্যে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট একটি অন্তর্বর্তী সরকার নিয়োগ দেবেন, যারা নতুন নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত দেশ পরিচালনা করবে। ভাষণে জেলিয়াজকভ বলেন, আমাদের জোট বৈঠক করেছে। আমরা বর্তমান পরিস্থিতি, আমাদের সামনের চ্যালেঞ্জ এবং যে সিদ্ধান্তগুলো আমাদের দায়িত্বশীলভাবে নিতে হবে, তা নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপরই তিনি সরকার থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানী সোফিয়াসহ দেশটির বেশ কয়েকটি শহরে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। বুলগেরিয়ায় দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি এবং তা নির্মূলে সরকারের ব্যর্থতার বিরুদ্ধে এটি ছিল ধারাবাহিক বিক্ষোভের অংশ।
বিক্ষোভকারীদের বড় একটি অংশ তরুণ ও শহুরে পেশাজীবী। তারা বুলগেরিয়ার ইউরোজোনে যোগ দেওয়া এবং ইউরোপীয় মূলধারার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়ার পক্ষে। ২০০৭ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগ দিলেও, বুলগেরিয়া এখনো ইইউর সবচেয়ে দরিদ্র ও দুর্নীতিগ্রস্ত সদস্য দেশ। বিক্ষোভের ধরন সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী জেলিয়াজকভ বলেন, আমরা বুঝতে পারছি যে এই প্রতিবাদ ছিল ঔদ্ধত্য ও অহংকারের বিরুদ্ধে। এটি কোনো সামাজিক প্রতিবাদ নয়, বরং মূল্যবোধের প্রতিবাদ। এটি কোনো নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের সমাবেশ ছিল না, বরং এটি দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়। তাই এটি বুলগেরীয় সমাজের বিভিন্ন অংশকে এক করেছে। সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় মেটাতে কর ও লভ্যাংশের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল সরকারের ২০২৬ সালের বাজেটে। এটি ছিল ইউরোতে প্রণীত দেশটির প্রথম বাজেট। কিন্তু এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ শুরু হলে গত সপ্তাহে সরকার বাজেট পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয়। বাজেট প্রত্যাহারের পরও বিক্ষোভ থামেনি। গত চার বছরে দেশটিতে সাতবার জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার সর্বশেষটি ছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে। গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের মধ্যেই এই অস্থিরতা চলছে। সরকারের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দল ‘কন্টিনিউ দ্য চেঞ্জ-ডেমোক্রেটিক বুলগেরিয়া’ (সিসি-ডিবি)-এর নেতা আসিয়ান ভ্যাসিলভ। তার দলই সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল। ভ্যাসিলভ বলেন, বুলগেরিয়াকে একটি স্বাভাবিক ইউরোপীয় দেশে পরিণত করার প্রথম ধাপ এই পদত্যাগ। তিনি আরও বলেন পরবর্তী ধাপ হলো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা, গত সংসদ নির্বাচনের মতো কারচুপির নির্বাচন নয়। বিদায়ী জোটের নেতৃত্বদানকারী মধ্য-ডানপন্থি জিইআরবি দলের নেতা বয়কো বরিসভ অবশ্য নিজের দলের অবস্থান সাফাই করেছেন। তার সময়েই বুলগেরিয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের উন্মুক্ত সীমান্ত শেনজেন জোনে প্রবেশ করেছে এবং ইউরোতে যোগ দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
