যাত্রী ভোগান্তির পর রাতে চালু মেট্রোরেল

আপডেট : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৫ এএম

দাবি আদায়ের অংশ হিসেবে আগাম ঘোষণা দেওয়া মেট্রোরেল কর্মীদের সর্বাত্মক কর্মবিরতি স্থগিত করা হয়েছে। সব মেট্রো স্টেশন পুনরায় চালু হয়। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টা ১৫ মিনিটে উত্তরা উত্তর থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ১৮ ডিসেম্বর বিশেষ বোর্ডসভা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার পর তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন।

গতকাল নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, উত্তরা থেকে বেলা ৩টা ও মতিঝিল থেকে ৩টা ২০ মিনিটে ট্রেন ছাড়ার কথা থাকলেও কোনো ট্রেনই স্টেশন ছাড়েনি। মেট্রোরেলে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রীরা স্টেশনে এসে ফিরে যায়। উপায় না পেয়ে বাসেই বা অন্য কোনো বাহনে ব্যবহার করেন তারা। এদিকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সর্বাত্মক কর্মবিরতিতে থাকার ঘোষণা দিয়েছে ডিএমটিসিএলের কর্মীদের একাংশ।

গতাকাল বিকেলে রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি), কারওয়ান বাজার ও শেওড়াপাড়া স্টেশনে দেখা যায়, সিঁড়িতে ওঠার কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো। স্টেশনে ওঠার অপেক্ষায় অসংখ্য মানুষ দাঁড়িয়ে আছেন। রাস্তায়ও দাঁড়িয়ে অসংখ্য মানুষ। অনেক যাত্রী এসে ফিরে যান। ঢাবির সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের গেটে চারুকলার এক শিক্ষার্থী বলেন, শুক্রবার বিকেলে মিরপুর পড়াতে যাই। মেট্রোরেল বন্ধ থাকায় টিউশনি বাদ দিয়েছি।

বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে শাহবাগে আসার পথে মেট্রো না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন রাজনৈতিককর্মী সাইদুল হক। তিনি বলেন, ৪টায় একটি প্রোগ্রাম ছিল। স্টেশনে এসে দেখি সিঁড়িতে ওঠার কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো। কর্তৃপক্ষ বলেছিল ট্রেল চলবে। কিন্তু এসে দেখি বন্ধ।

স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা প্রণয়নে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে গতকাল সকাল ৭টা থেকে সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিএমটিসিএল নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ। এ কারণে মেট্রোরেলের যাত্রীসেবায় বিঘ্ন ঘটার শঙ্কা দেখা দেয়। তবে ঢাকায় মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ডিএমটিসিএল গত বৃহস্পতিবার রাতে জানায়, মেট্রোরেল নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল করবে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের এ ঘোষণা মানেননি আন্দোলনকারীরা।

ডিএমটিসিএল সূত্রে জানা যায়, দাবি আদায়ের জন্য গত বৃহস্পতিবার উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মেট্রোরেলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় তারা দাবি আদায়ের জন্য বিভিন্ন স্লোগান দেন। সে সময় কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৮ ডিসেম্বর বিশেষ বোর্ডসভায় স্বতন্ত্র চাকরি বিধিমালা অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। সে ক্ষেত্রে আন্দোলনকারীদের দাবি পূরণ হয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় আন্দোলন করার আর কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাই আজ শনিবার থেকে সবাইকে নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, তাদের দাবি অনুযায়ী চাকরিবিধি ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনুমোদিত হয়নি। এজন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি চলবে। এ সময় কোনো যাত্রীসেবা দেওয়া হবে না। শুক্রবার সকাল থেকে মেট্রোরেলের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেবেন আন্দোলনকারীরা।

গতকাল সকাল থেকে উত্তরার দিয়াবাড়িতে ডিএমটিসিএল প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। ডিএমটিসিএলের এমডিসহ কর্মকর্তারা বন্ধের দিনও প্রধান কার্যালয়ে অবস্থান করে আন্দোলনকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তারা তাৎক্ষণিক বিধিমালা অনুমোদন চান। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমটিসিএল এমডি ফারুক আহমেদ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে ফেরত আসেন। পরে এমডিকে তার কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে এমডির কক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত