বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘যে কথাটা আমি আগে বলেছিলাম যে, নির্বাচন অত সহজ হবে না, ষড়যন্ত্র কিন্তু থেমে নেই। গত কয়েক দিনের ঘটনা, গতকালকের ঘটনা, চট্টগ্রামে আমাদের প্রার্থীর ওপরে গুলিবর্ষণের ঘটনাএই সবকিছু নিয়েই কিন্তু প্রমাণিত হচ্ছে যে, যা আমি বলছিলাম তা কিন্তু সত্য হচ্ছে আস্তে আস্তে। কাজেই আমরা যদি নিজেদের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে নিয়ে না আসি, আমরা যদি নিজেরা ঐক্যবদ্ধ না হই। এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে।’
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ফার্মগেটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির উদ্যোগে ‘দেশ গড়ার পরিকল্পনা’ শীর্ষক কর্মশালায় তারেক রহমান এ কথা বলেন। ধারাবাহিক কর্মশালার সপ্তম দিনে বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতারা অংশ নেন।
প্রত্যেকবার দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে বিএনপি উদ্ধার করেছে, তার কথা তুলে ধরে তারেক বলেন, ‘প্রত্যেকবার এই দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে গিয়েছে, প্রত্যেকবার আপনারা, কখনো শহীদ জিয়ার নেতৃত্বে, কখনো দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে, আস্তে আস্তে সেই খাদের কিনারা থেকে দেশকে আবার বের করে নিয়ে এসেছে। দেশকে তখনই খাদের কিনারা থেকে নিয়ে আসতে পারব যেই ষড়যন্ত্রগুলো চলছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর বলছে, এই ষড়যন্ত্রগুলো এখনই থেমে থাকবে না। আরও খারাপও হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভয় পেলে চলবে না, আমাদের আতঙ্কগ্রস্ত হলে চলবে না। আমাদের মানুষদের সাহস দিতে হবে, আমাদের নিজেদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, দেশের সাধারণ গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। আমরা যত ঐক্যবদ্ধ হব, আমরা যত সামনে এগিয়ে আসব, যেকোনো মূল্যে নির্বাচন হবে, এই পরিস্থিতি যত আমরা তৈরি করব ষড়যন্ত্রকারীরা তত পিছু হটতে বাধ্য হবে।’
চট্টগ্রামে ও ঢাকায় দুই ভোটের প্রার্থীর ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, ‘চট্টগ্রামে ঘটনা ঘটেছে, গতকাল একটা ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা দিয়ে কেউ কোনো ফায়দা লোটার অবশ্যই প্রচেষ্টা হচ্ছে, তাই মনে হয় না আপনাদের। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’
খাল খনন, স্বাস্থ্য কার্ড, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, শিক্ষাব্যবস্থা, বেকার সমস্যা, তথ্যপ্রযুক্তি, বায়ু ও পানি দূষণরোধ প্রভৃতি বিষয়ে বিএনপির প্রণীত পরিকল্পনাগুলো এবং তার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন আমাদের সময় এসেছে আমি কী পেলাম, এটা বাদ দিতে হবে। সময় এসেছে আমি দেশ এবং জাতির জন্য কতটুকু করতে পারলাম। আজ সময় এসেছে নিজে কী পেলাম এটা ভুলে যাওয়ার। আজকে আপনি যদি দেশ এবং জাতির জন্য কিছু করেন কিংবা করতে পারেন, কী দিতে পারলাম, কী দিচ্ছে দেশ এবং জাতিকে, তাহলে আগামী দিনে আপনার সন্তান, আপনার নাতি-পুতি এরা ভালো থাকবে। আপনার ভবিষ্যৎ বংশধর ভালো থাকবে। আসুন আমাদের লক্ষ্য হোক দেশে শান্তি, শৃঙ্খলা এবং আইনের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
তারেক বলেন, ‘এখন আর ঘরে বসে থাকার সময় নেই। দয়া করে আসুন, এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে, এই যুদ্ধে জেতার সবচেয়ে বড় সহযোগী কে? বাংলাদেশের জনগণ। বাংলাদেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এই যুদ্ধে আমাদের জিততে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আসুন তিনটি বিষয়ে আপনাদের সহযোগিতা চাই। ইনশাআল্লাহ আমি পাব। দেখা হবে যুদ্ধের মাঠে, দেখা হবে সংগ্রামের মাঠে, দেখা হবে আপনাদের সঙ্গে ভোটের ময়দানে।’
তারেক রহমানকে ‘গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার’ হিসেবে অভিহিতি করে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘এখন যার অপেক্ষায় বাংলাদেশ চেয়ে আছে। গণতন্ত্রের টর্চ বেয়ারার তারেক রহমান ২৫ তারিখে বাংলাদেশে ইনশাআল্লাহ ফিরে আসবেন... এটা আমাদের আনন্দের সংবাদ। যার অপেক্ষায় বাংলাদেশ, যার আগমনে বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগামী দিনে গণতন্ত্র, গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরে আনার যে সংগ্রাম বিগত বছরগুলোতে আমরা করেছি। যার নেতৃত্বে জাতিকে ঐক্যবদ্ধভাবে সেই আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি, সেই আন্দোলনের নায়ক।
ইনকিলাব মঞ্চের হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘খুবই দুঃখজনক। এই সময়টাতে যখন স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন বিএনপি বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে, রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি নতুন স্বপ্ন দেখছে, বাংলাদেশের মানুষ বিগত ১৭ বছর নিপীড়ন-নির্যাতন ভোগ করেছে। ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের মানুষের মনোজগতে যে পরিবর্তন আসছে সেই পরিবর্তনকে মাথায় রেখে বিএনপি একটি স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য, একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার জন্য যে রাজনীতি তারেক রহমান ধারণ করেছেন।’ এ ব্যাপারে বিএনপির নেতাকর্মীদের ‘চোখ-কান খোলা রাখার’ আহ্বান জানান খসরু।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলের সঞ্চালনায় দলের অন্যান্য নেতারা এ সময় বক্তব্য রাখেন।
