এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকাকে সংযুক্তকারী এক বিশাল বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক নেটওয়ার্ক ছিল সিল্ক রোড। এই রুট মানুষ ও পণ্যের চলাচলের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমগ্র পৃথিবীর সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক বিন্যাসকেই আমূল পাল্টে দিয়েছে। এটি কোনো একক মসৃণ রাস্তা ছিল না; মরুভূমি, কঠিন পর্বতমালা, নদী এবং সমুদ্রপথ মিলিয়ে তৈরি এক সুবিশাল নেটওয়ার্ক। আর এই রুট ধরেই ফ্রান্সের উত্তর–পশ্চিমের শহর রেন থেকে ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীনে পৌঁছান এক তরুণ। ফ্রান্সের এই তরুণের নাম কিলিয়ান ল্যু গিয়াদে।
কিশোর বয়সে জঙ্গলে বেড়াতে গিয়ে টিকের (এঁটুলি) কামড় খেয়ে লাইম রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন কিলিয়ান ল্যু গিয়াদে। আর এতে প্রায় তিন বছর অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক সময় পার করেছিলেন তিনি। এমনকি নিজের দৈনন্দিন কাজ করার মতো শারীরিক শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিলেন। আর নিজের সেই যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতা থেকে লাইম রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করতেই তার এই দীর্ঘ পথ পারি দেওয়া। তবে ছোট থেকেই স্বপ্ন ছিল ঐতিহাসিক ‘সিল্ক রোড’ ধরে সাইকেল চালিনোর।
আর সেই উদ্দেশ্য পূরণে ফ্রান্সের উত্তর–পশ্চিমের শহর রেন থেকে সাইকেল চেপে চীনের পথে বেরিয়ে পড়েন কিলিয়ান। সিল্ক রোড ধরে কিলিয়ান চলতে থাকেন এবং একে একে পাড়ি দেন ৩০টির বেশি দেশ। প্রায় ১৮ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চীনে পৌঁছান তিনি। আর এসময়ের প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার একাই সাইকেল চালিয়েছেন। এর মধ্যে কিছু সময় তুরস্ক ও জর্জিয়ায় তার এক বন্ধু তার সঙ্গী হয়েছিলেন।
পুরো সময় ধরে তিনি লাইম রোগ নিয়ে সচেতনতা আর আশার বাণী ছড়িয়ে গেছেন। পথে পথে মানুষের কাছে তিনি এ রোগের বিরুদ্ধে নিজের হার না মানা লড়াইয়ের গল্প শুনিয়েছেন। আর তার এই অর্জনকে লাইম রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা মানুষের নামে উৎসর্গ করেন।
তার এই গল্প মানুষকে উৎসাহিত করবে বলেও তিনি আশা করেন। এমনকি তিনি নিজের এই যাত্রাকে তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা বলে বর্ণনা করেন।
কিলিয়ান ২০২৩ সালে ফ্রান্সের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক করেন। এরপর তিনি নিজের স্বপ্নপূরণের পথে যাত্রা করতে আট মাস তহবিল সংগ্রহ করেন।
