সময়ের দর্শকপ্রিয় মডেল-অভিনেত্রী নাজিফা তুষি। যদিও এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের এক বছর পার বরেছেন। সৌন্দর্য ও মেধার যোগসূত্র হলে যে ভালো কিছু হয়, তার প্রমাণ তিনি দিয়েছেন অনেক আগেই। রুপালি পর্দা ও ওটিটিতে নিজেকে তিনি তুলে ধরেছেন নানা অবয়বে। ক্যারিয়ারের প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’র মাধ্যমে দর্শকের নজর কাড়েন এই অভিনেত্রী। তবে প্রথম সিনেমাতে এক প্রকার বাজিমাত করলেও বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় আর দেখা যায়নি তাকে। ওই সময় বিভিন্ন অভিনয় কর্মশালা ও কোর্স করেছেন তিনি। প্রাচ্যনাটের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। প্রচারবিমূখ এই মডেল-অভিনেত্রী অপেক্ষায় ছিলেন ‘হাওয়া’র মতো মনের মতো একটি চলচ্চিত্রের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায় ‘রইদ’। সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন ছোটপর্দার আলোকিত পরিচালক মেজবাউর রহমান সুমন। এরই মধ্যে চলচ্চিত্রটির শুটিং, ডাবিং শেষ হয়েছে। বর্তমানে এর সম্পাদনার কাজ চলছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাজিফা তুষি। তার বিপরীতে রয়েছেন মোস্তাফিজ নূর ইমরান। এছাড়া এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন গাজী রাকায়াত।
গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডের একটি ক্যাফেতে অনুষ্ঠিত হলো সিনেমাটির কলাকুশলীদের নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে গেট টুগেদার পর্ব। এখানে মেজবাউর রহমান জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুন-জুলাইয়ে ‘রইদ’ বড় পর্দায় দর্শকের সঙ্গে দেখা করবে। তবে পরিচালক জানালেন তার আগে আগামী ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে সিনেমাটি। সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সিনেমার মুক্তির সময়সূচিকে কিছুটা প্রভাবিত করতে পারে। সিনেমাটি মূলত একটি প্রেমের গল্পের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হলেও এতে পারিপার্শ্বিক নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ও উঠে এসেছে। সিনেমার বেশির ভাগ দৃশ্য সিলেটের সুনামগঞ্জে ধারণ করা হলেও এটি আঞ্চলিক কোনো ভাষা বা সংস্কৃতির গল্প নয়। নির্মাতার ব্যাখ্যা, গল্প বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ ও সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করবে।
নির্মাতা আরও জানান, সিনেমাটিতে অনেক অভিনয়শিল্পী প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। দৃশ্যধারণের জন্য খুলনা ও যশোরের প্রথিতযশা থিয়েটারশিল্পীরাও অংশগ্রহণ করেছেন এবং দীর্ঘ ৬ মাসের গ্রুমিং প্রক্রিয়ার পর শুটিং সম্পন্ন হয়েছে। রইদের প্রাথমিক ঘোষণা ৪ বছর আগে দেন মেজবাউর রহমান। শুরুতে অভিনেত্রী জয়া আহসান প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে সরকারি অনুদান হিসেবে ৬০ লাখ টাকা পেয়েছিলেন। তবে কাজ শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় জয়া অনুদান ফেরত দিয়েছেন। বর্তমানে প্রযোজক হিসেবে যুক্ত আছে ‘বঙ্গ’ এবং সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছে নির্মাতার ফেসকার্ড প্রডাকশন।
রইদ সিনেমাটি নিয়ে নাজিফা তুষিও বেশ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জানিয়েছেন, অনেকদিন পর মনের মতো একটি সিনেমায় অভিনয় করেছি। ছবির গল্প, চিত্রনাট্য, গান, চরিত্র সবকিছুতেই ব্যতিক্রমী ছোঁয়া রয়েছে। তাছাড়া নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের নির্মাণশৈলী নিয়ে বলার কিছু নেই। আমার মনে হয়, তার সবটুকু মেধা ঢেলে দিয়ে রইদ নির্মাণ করেছেন। আমার বিশ্বাস সিনেমাটি সব ধরনের দর্শকের পরিপূর্ণ বিনোদন দেবে।’
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ‘আইসক্রিম’ দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক তুষির। এরপর দীর্ঘদিন ছিলেন বড় পর্দা থেকে দূরে। ৬ বছর বিরতির পর ২০২২ সালে ‘হাওয়া’ দিয়ে নিজের জাত চিনিয়েছেন তিনি।
