গর্ভকালীন সঠিক যত্ন নিলে একজন সন্তানসম্ভবা নারী স্বাভাবিক বা নরমাল ভাবে সন্তান জন্ম দিতে পারে। গর্ভধারণের শুরু থেকেই নিয়মিত চেকআপ করতে হবে। প্রতিমাসে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অঘঈ (Antenatal Care)। রক্তচাপ, ওজন, হিমোগ্লোবিন, সুগার, প্রস্রাব পরীক্ষা করা। ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী সময়মতো আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা। মনে রাখতে হবে কোনো ধরনের জটিলতা আগে থেকেই ধরা পড়লে নরমাল ডেলিভারি নিরাপদ ভাবে করা সম্ভব। সঠিক সময়মতো পুষ্টিকর খাবার খাওয়া একজন সন্তানসম্ভবা নারীর জন্য অনেক জরুরি। স্বাভাবিক প্রসবের জন্য শরীর নীরোগ ও সুস্থ রাখা কর্তব্য।
স্বাভাবিক প্রসবের জন্য
সবুজ শাকসবজি, ডিম, মাছ, মাংস, দুধ, দই, ফলমূল, ডাল, বাদাম খাবারের পাশাপাশি। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খুব জরুরি উপাদান আয়রন ও ফোলিক অ্যাসিড ও ক্যালসিয়াম গ্রহণ করতে হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত জাঙ্ক ফুড, বেশি চিনি ও অতিরিক্ত তেল এড়িয়ে চলতে হবে। খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত হালকা ব্যায়াম ও হাঁটা দরকার। নিয়ম করে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটতে হবে। ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে গর্ভকালীন যোগব্যায়াম করতে পারেন। পেলভিক ফ্লোর এক্সারসাইজ করতে পারেন। এসব ব্যায়াম প্রসবের সময় সহনশীলতা বাড়ায়, বাচ্চা নিচে নামতে সাহায্য করে, প্রসবকাল কম হয়।
গর্ভকাল
সঠিক ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও দরকার। মনে রাখবেন অতিরিক্ত ওজন হলে সিজারিয়ান ঝুঁকি বাড়ে। কম ওজন হলে মা ও সন্তানের জটিলতা বাড়ে।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ওজন ঠিক রাখা গুরুত্বপূর্ণ। মানসিক প্রস্তুতি ও ভয় দূর করাও গর্ভকালে গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ভয় বা স্ট্রেস প্রসবকে কঠিন করে, স্বাভাবিক প্রসব সম্পর্কে জানা, শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, পরিবারের ইতিবাচক সহযোগিতা, শান্ত মন প্রসবকে সহজ করে। গর্ভকালে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম দরকার। দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম। বাম কাতে শোয়া ভালো। অতিরিক্ত কাজ বা ভারী জিনিস তোলা এড়িয়ে চলুন। প্রসবের সময় সঠিক সহযোগিতার জন্য অভিজ্ঞ ডাক্তার বা মিডওয়াইফ। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান এড়িয়ে চলা। প্রসবের সময় ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী চাপ দেওয়া। কখনো স্বাভাবিক প্রসব সম্ভব নাও হতে পারে সব চেষ্টা সত্ত্বেও কিছু ক্ষেত্রে সিজারিয়ান প্রয়োজন হতে পারে। যেমন বাচ্চার অবস্থান উল্টো হওয়া। অতিরিক্ত উচ্চ রক্তচাপ বা ডায়াবেটিস প্লাসেন্টার সমস্যা। আগের সিজারিয়ান জটিলতা থাকলে।
স্বাভাবিক প্রসবের উপকারিতা
কম ঝুঁকি, কম খরচ, মা ও শিশু দুজনের দ্রুত সুস্থতা ভবিষ্যতে গর্ভধারণে কম জটিলতা হয়।
