ঈশ্বরদীতে পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় চুরি

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:৩৯ এএম

পাবনার ঈশ্বরদী থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাড়া বাসায় অভিনব কৌশলে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ আনুমানিক ছয় লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে শহরের শেরশাহ রোড এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

চুরির শিকার পুলিশ কর্মকর্তা হলেন ঈশ্বরদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও থানার সাবেক সেকেন্ড অফিসার মো. শরিফুজ্জামান।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান জানান, পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় সংঘটিত এ চুরির ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী এসআই মো. শরিফুজ্জামান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশেষ প্রয়োজনে স্ত্রীসহ বাসা তালাবদ্ধ করে বাইরে যান তারা। রাত ৮টার দিকে বাসায় ফিরে ঘরের আসবাবপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, রান্নাঘরের এক্সিট ফ্যান ভেঙে দুর্বৃত্তরা ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভাঙা অংশ দিয়ে একটি শিশুকে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে চুরির ঘটনা ঘটানো হয়।

এ সময় বাসার ওয়ারড্রব ও আলমিরা থেকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, ছয় ভরি রূপা, একটি ডায়মন্ডের নাকফুল, নগদ দুই লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে আনুমানিক ছয় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে ওসি মো. মমিনুজ্জামান বলেন, ‘একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এ ধরনের চুরির ঘটনা আমাদেরও বিস্মিত করেছে। রান্নাঘরের এক্সিট ফ্যান ভেঙে অল্প জায়গা দিয়ে শিশু প্রবেশ করিয়ে চুরি করার কৌশলটি অভিনব ও বিরল। চোরদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।’

এদিকে, পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় সংঘটিত এ চুরির ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যখন একজন পুলিশ কর্মকর্তার বাসায় এভাবে চুরি হতে পারে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত