ঢাকা-১০ আসনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রচারণার ক্ষেত্রে ঝুঁকি রয়েছে। তাই স্বাভাবিক প্রচারণা করতে পারছি না। শরিফ ওসমান হাদির হত্যার খুনিদের এখনো পর্যন্ত সরকার গ্রেপ্তার করতে পারিনি। এটি সরকারের ব্যর্থতা।’
গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ধানম-ি থানার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র নেন তিনি। আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেড় বছর সরকারে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি। এই অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। কীভাবে মানুষের সমস্যা সমাধান করতে হয়, কোন অফিসে কোন কাজ হয়, শিখেছি। তা আমি জনগণের জন্য কাজে লাগাব। আমার আসনের প্রত্যেকটা থানা ও ওয়ার্ডে জনগণের যে সমস্যা আছে, তা সমাধানে এই অভিজ্ঞতা কাজে আসবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে আসিফ বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকা-ে সরকার খুনিদের ধরতে ব্যর্থ হয়েছে। আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে, কিন্তু তারা কোথায় আছে তা সরকার নিশ্চিত হতে পারছে না। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক। ফলে নির্বাচনের সব প্রার্থীর জন্য একটা ঝুঁকির জায়গা থেকে যায়।’ তিনি বলেন, ‘বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের টার্গেট করা হচ্ছে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। আমাকেও সরকারের বিভিন্ন স্তর ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে বলা হয়, আপনার নিরাপত্তাঝুঁকি আছে। আপনি এখানে যেতে পারবেন না, ওখানে যেতে পারবেন না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি স্বাধীনভাবে বের হতে না পারি, তাহলে নির্বাচনী প্রচারণায় অনেকটা পিছিয়ে পড়ব। সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।’
১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। এর আগের দিন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেন আসিফ মাহমুদ। এর পরপরই তার গণ অধিকার পরিষদে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি আসিফ মাহমুদ বলেন, তিনি ঢাকা-১০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চলেছেন। উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় নিজের ভোটার এলাকা কুমিল্লা থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করতে গত ৯ নভেম্বর ধানম-ি থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়েছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সেদিন তিনি বলেছিলেন, ঢাকার কোনো একটি আসন থেকে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী হিসেবে তার লড়াই করার ইচ্ছা রয়েছে।
ধানমন্ডি, নিউ মার্কেট, কলাবাগান, হাজারীবাগ থানা নিয়ে ঢাকা-১০ আসন গঠিত। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আসিফের সহযাত্রীদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এ আসনে কোনো প্রার্থী দেয়নি। আর বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ রবিউল আলম রবি। জামায়াতের প্রার্থী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জসীম উদ্দিন সরকার। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য।
