হাঁটুব্যথা শুধু বয়সের কারণে হয় তা কিন্তু নয়, যেকোনো বয়সেই হাঁটুব্যথা হতে পারে। যদি ব্যথা দীর্ঘদিন যাবৎ থেকে যায়, তবে কিন্তু অবহেলা না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্নই হতে হবে।
শরীরের সবচেয়ে ওজন বহন করা যে কটি জয়েন্ট আছে তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের এই হাঁটু। ভিটামিন সি ডি ক্যালসিয়ামের অভাবে হাঁটুব্যথা হয়ে থাকে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে হাঁটু ব্যথার সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারলে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হাঁটুব্যথা খুব দ্রুত ভালো হয়ে যায়।
কারণ
শীতকালেও হাঁটুব্যথার অনেক কারণ রয়েছে, তার মাঝে কিছু কমন এবং গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে তুলে ধরা হলো
১. হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে হতে পারে।
২. লিগামেন্ট অথবা মিনিসকাস ইনজুরির কারণে হতে পারে।
৩. আর্থ্রাইটিসের সমস্যার কারণে হতে পারে যেমন
অস্টিওআথ্রাইটিস রিমোটিক আর্থ্রাইটিস এনকাইলজিং স্পনডাইলোসিসসহ অনেক কারণে হতে পারে।
৪. জয়েন্টের মাঝে দূরত্ব কমে গেলে।
৫. খেলাধুলা করার সময় হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার কারণে হতে পারে।
৬. বয়সজনিত কারণে হতে পারে।
৭. শরীরের অতিরিক্ত ওজনের কারণে হতে পারে।
৮. ট্রমা অথবা এক্সিডেন্টাল কারণে হতে পারে।
৯. পুরুষের তুলনায় মহিলাদের আক্রান্তের হার বেশি।
লক্ষণ
হাঁটু ফুলে যাওয়া, হাঁটু শক্ত হয়ে যাওয়া, হাঁটুর লাল বর্ণ ধারণ ও গরম অনুভব করা, হাঁটাচলা বা দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে সমস্যা হওয়া, হাঁটুর শক্তি কমে যাওয়া, হাঁটু ভাঁজ করতে অথবা সোজা করতে ব্যথা অনুভব হওয়া, নিচ থেকে ওপরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে অথবা ওপর থেকে নিচে নামতে প্রচ- ব্যথা অনুভব করা।
চিকিৎসা পদ্ধতি
হাঁটুব্যথায় বরফ অথবা গরম পানির সেঁক দিতে পারেন, কিন্তু কখন কোন প্রক্রিয়া প্রয়োগ করবেন এটি আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিলে দ্রুত আরোগ্য লাভ করা যায়।
হাঁটুব্যথায় বরফ সেঁক নিতে পারেন যদি কোনো প্রকার আঘাতের ফলে হাঁটুব্যথা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে বরফ খুব কার্যকর চিকিৎসা। গরম পানির সেঁক দিতে পারেন যদি আর্থ্রাইটিসজনিত কারণে অথবা দীর্ঘদিন যাবৎ ব্যথা থেকে থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কিছু ব্যথানাশক ওষুধ সেবন করে খুব উপকার পেতে পারেন।
এ বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত কিছু সঠিক ব্যায়াম করলে হাঁটুব্যথা থেকে অনেকাংশে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারা যায়, মিনিসকাস টেনডন অথবা হাড়ের ক্ষয়জনিত কারণে কোনো কোনো সময় অপারেশনের প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে নিয়মিত সঠিকভাবে ব্যায়াম করলে হাঁটুর ব্যথা থেকে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ রোগী দ্রুত সময়ে ভালো হয়ে যায়।/
