তারেক রহমানকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৩১ এএম

দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নজিরবিহীন নিরাপত্তা দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নিরাপত্তাকর্মীরা প্রস্তুত ছিলেন গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচলমুখী ‘জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়ে’তে (৩০০ ফিট সড়ক) সংবর্ধনাস্থলে এবং বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতাল হয়ে গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবন ‘ফিরোজা’ পর্যন্ত ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

বিমানবন্দর থেকে শুরু করে গুলশান-২ পর্যন্ত চার হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। আজ (শুক্রবার) তারেক রহমানের কর্মসূচি ঘিরে থাকছে তাদের বিশেষ পরিকল্পনা। জুমার নামাজের পর বাবার কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানে যাবেন তিনি; পরে সাভার স্মৃতিসৌধে যাবেন। এসব কর্মসূচিতে বিশেষ নিরাপত্তা দেওয়া হবে তাকে।

গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, বিমানবন্দরের ভিভিআইপি টার্মিনালের প্রধান ফটকে একাধিক স্তরের নিরাপত্তা বসানো হয়েছে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, বিমানবাহিনী, পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। র‌্যাবের ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশি চালানো হয় এবং একটি বিশেষ সেনা দলও মোতায়েন করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দল ‘চেয়ারপারসন’স সিকিউরিটি ফোর্সকেও (সিএসএফ) দেখা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়েও তল্লাশি করতে দেখা গেছে।

পূর্বাচলের গণসংবর্ধনাস্থল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্যের অবস্থান ছিল। বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটক থেকে প্রধান সড়ক পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। বিদেশগামী যাত্রী ছাড়া কাউকে বিমানবন্দরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। গণমাধ্যামকর্মীরা ভিআইপি ফটক থেকে ২০০ গজ দূরে অবস্থান করেছেন।

নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, চেয়ারপারসনস সিকিউরিটি ফোর্স, মিরপুর সেনানিবাসের এয়ার ডিফেন্স (এডি) আর্টিলারি ইউনিট, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেড, সব গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক টিম, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), বিজিবির একাধিক চৌকস টিম, র‌্যাবের ইন্টেলিজেন্স উইং এবং ব্যাটালিয়ন আনসাররা বিমানবন্দর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল এবং গুলশানের ফিরোজায় বিশেষ নজরে রেখেছে। একাধিক সংস্থার সদস্যরা ৩০০ ফিট এক্সপ্রেসওয়ে, এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এভারকেয়ার হাসপাতাল, এভারকেয়ার থেকে গুলশানের বাসা পর্যন্ত নিরাপত্তা দিয়েছেন। কিছু সংস্থার সদস্যরা ওইসব এলাকার সুউচ্চ ভবনের ছাদেও অবস্থান নিয়েছিলেন।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমানের নিরাপত্তার জন্য রাজধানী জুড়ে ৪ হাজার ৬৪৯ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। পুলিশের পাশাপাশি এ কার্যক্রমে যুক্ত ছিল সেনাবাহিনী, র‌্যাব, বিজিবি ও সিএসএফ।

নিরাপত্তা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারেক রহমানের জন্য বিশেষ এসকর্ট ব্যবস্থা ছিল। বিমানবন্দরে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে ১৫৫ জন পুলিশ সদস্য এবং দেড় শতাধিক সেনাসদস্য এসকর্টের দায়িত্বে ছিলেন। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী নিরাপত্তা কার্যক্রমের তদারকি করেন। তার অধীনে সাতজন যুগ্ম পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করেছেন। এপিবিএনের ১ হাজার ৫৬, ডিবি পুলিশের ১০০ এবং এটিইউ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য মোতায়েন ছিল। নারী পুলিশ সদস্য এবং ডগ স্কোয়াডও সক্রিয় ছিল।

পূর্বাচলের ৩০০ ফিটসংলগ্ন সংবর্ধনাস্থলে যাতায়াতের সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি বিবেচনা করে ৭৮৫ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন ছিলেন। ডিএমপির নির্দেশ অনুযায়ী, তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িবহর এবং অনুমোদিত নির্দিষ্ট কয়েকটি গাড়ি ছাড়া আর কোনো যানবাহন এ পথে প্রবেশ করতে পারেনি।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে পর্যাপ্ত সেনাসদস্য মোতায়েন ছিল। বিজিবি সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে রাজধানীতে ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সিলেটের শাহ আমানত বিমানবন্দরসহ আশপাশ এলাকায় সকাল থেকেই বিজিবির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ছয় স্তরের নিরাপত্তা : ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেছেন, ছয় স্তরের নিরাপত্তার চাদরে নিরাপত্তায় ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিমানবন্দরের ‘ইয়োলো জোন’ থেকে পুরো ১২ ঘণ্টা ছায়ার মতো তার চারপাশে ঘিরে ছিলেন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা।

ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তার বিষয়ে ডিএমপির পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ডিবির ১৫০ থেকে ২০০ সাদা পোশাকধারী ফোর্স মোতায়েন ছিল। বিমানবন্দরের ইয়োলো জোন থেকে শুরু করে তারেক রহমানের কনভয়ের সঙ্গে ডিবির সদস্যরা সাদা পোশাকে ছিলেন।

ভোগান্তি কম, উৎসব ছিল সড়কে : গতকাল সরকারি ছুটি উপলক্ষে রাজধানীর সড়কগুলো অনেকটাই ফাঁকা ছিল। গতকাল দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, সায়েদাবাদ, গুলিস্তান, পল্টন, শাহবাগ, ফার্মগেট, মগবাজার, মিরপুর সড়ক, সাত মসজিদ রোডে গণপরিবহন তেমন ছিল না। মেট্রোরেলেও যাত্রী ছিল কম।

মেট্রোরেলের শাহবাগে দায়িত্ব পালন করা আনসার সদস্য শুভাশিস জানান, আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকেই মেট্রোরেলে যাত্রী কম ছিল। দুপুরের দিকে দুই-একজন বেশি থাকলেও তা সাধারণ দিনের তুলনায় অনেক কম।’ ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) বড় দিন উপলক্ষে ছুটি। এরপর শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ঢাকায় গণপরিহন একটু কম।’ তিনি বলেন, ‘তারপরও আমরা ঢাকার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে সন্দেহভাজন যানবাহন বিশেষ করে মোটরসাইকেলগুলোতে তল্লাশি করেছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত