ডিসেম্বর মাসে স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর জুনায়েদ ও জুরাইন পেয়েছিল বেশ কয়েক দিনের ছুটি। বহুদিন ধরেই জুনায়েদ তার বাবা-মায়ের কাছে আবদার করছিল মামার বাড়ি যাওয়ার জন্য। একদিন বাবা তাদের কাছে ডেকে হাসিমুখে বললেন, আজ আমরা তোমার মামার বাড়ি যাব।
খুশিতে আত্মহারা হয়ে উঠল জুনায়েদ ও জুরাইন। আনন্দে তারা নাচতে থাকল।
খুশির কারণও ছিল যথেষ্ট। মামার বাড়িতে তাদের সমবয়সী মামাতো ভাই ও বোনেরা থাকত। তাদের সঙ্গে খেলাধুলা করা, গল্প করা আর সময় কাটাতে ওদের দারুণ লাগত।
কয়েক দিন মামার বাড়িতে থাকার এই সুযোগে কী কী করা যায়, তা নিয়ে দুই ভাই আগেই একটি পরিকল্পনা করে রেখেছিল।
শীতের মৌসুম। গাছ থেকে খেজুরের রস পাড়া, খেজুরের রস খাওয়া, খেজুরের রসের পায়েস, মামার সঙ্গে বিলে মাছ ধরা, কানামাছি খেলা, কিংবা নৌকা নিয়ে বিলে ঘোরাঘুরি সবই ছিল সেই পরিকল্পনার তালিকায়।
মামাদের বাড়ি খুব বেশি দূরে ছিল না। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই তারা পৌঁছে গেল সেখানে।
জুনায়েদ ও জুরাইনকে দেখে মামাতো ভাইবোনেরা ভীষণ খুশি হয়ে উঠল। সেদিন বিকেলে মামার সঙ্গে সবাই ভবানীপুরে গেল খেজুরের রস সংগ্রহ করতে। খেজুরগাছে উঠে মামা নিজ হাতে রস পেড়ে দিলেন।
জুনায়েদ ও জুরাইন ছাড়াও তাদের দুই মামাতো ভাই ও এক মামাতো বোন ছিল সেখানে। সদ্য পাড়া খেজুরের রস ছিল ঠান্ডা ও ভীষণ সুস্বাদু। বিশেষ করে জুরাইনের খুব ভালো লাগছিল।
পরদিন সকালবেলা জুনায়েদ ও জুরাইন মামাদের সঙ্গে বিলে মাছ ধরতে গেল। সবাই মিলে ছোট ছোট বাঁধ দিয়ে পানি সেচে ধরল নানা রকম মাছ। খলিশা, পুঁটি, টাকি, শোল দেশি প্রজাতির অনেক মাছ ধরা পড়ল সেদিন।
এরপর প্রতিদিনই চলতে লাগল খেলাধুলা। কখনো কানামাছি, কখনো ফুটবল, কখনো ক্রিকেট, আবার কখনো ব্যাডমিন্টন খেলে সময় কাটতে লাগল।
মামাতো ভাইয়েরাও সব সময় তাদের পাশে থাকত, সব কাজে সাহায্য করত। মামাদের আমবাগানের পাশে ফাঁকা মাঠে হয় ক্রিকেট আর ফুটবল খেলা।
মাঠের দুপাশে পাখির কিচিরমিচির ডাক ভেসে আসে, যা শুনে আরও ভালো লাগত জুনায়েদ ও জুরাইনের।
এভাবেই আনন্দে কেটে গেল কয়েকটি দিন।
একদিন সকাল প্রায় ১০টার দিকে বাবা এলেন তাদের নিতে। দুপুরের খাবার শেষ করে জুনায়েদ ও জুরাইন মামা-মামি ও মামাতো ভাইবোনদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
মামাতো ভাই ও বোনেরা রাস্তায় এগিয়ে এসে হাত নেড়ে নেড়ে বিদায় জানাল। গাড়ির কাচ দিয়ে যতক্ষণ তাদের দেখা যাচ্ছিল, ততক্ষণ তাকিয়ে রইল জুনায়েদ ও জুরাইন।
অনেক স্মৃতি, অনেক সুন্দর মুহূর্ত নিয়ে দুই ভাই ফিরে এলো বাড়িতে।
প্রতিবছরই স্কুলের ছুটিতে মামার বাড়িতে আসা হয়, কিন্তু এবারের ছুটিটাই ছিল সবচেয়ে আনন্দময়।
জুনায়েদ ও জুরাইনের কাছে এই ছুটির দিনগুলো হয়ে রইল জীবনের সবচেয়ে সুন্দর স্মৃতির একটি অধ্যায়।
