নির্বাচন অফিসে আগুনের ঘটনায় যুবক গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:৩৫ এএম

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন অফিসে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগানোর ঘটনায় মো. রুবেল নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া রুবেল লক্ষ্মীপুর পৌরসভার দক্ষিণ মজুপুর এলাকার মৃত আবুল হাশেমের ছেলে এবং সদর থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাকিমের ভাই। তিনি বিদ্যুৎ অফিসের সাবেক গাড়িচালক। তার ভাই আজিজ ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় তিন মাস আগে তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। চাকরিকালীন সময়েই সাবেক মন্ত্রীর এপিএস শিমুলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

প্রেস ব্রিফিংয়ে লিখিত বক্তব্যে এসপি জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর জনগণের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি ও নির্বাচন বানচালের লক্ষ্যে সাবেক মন্ত্রীর এপিএস শিমুল ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে রুবেলকে আগুন লাগানোর প্রস্তাব দেন।

এতে রুবেল রাজি হন। ১১ ডিসেম্বর বিকেলে শিমুল তার বিকাশে ২ হাজার টাকা পাঠান। ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একটি হোটেল থেকে এক লিটার পানির বোতল কিনে পানি ফেলে দিয়ে খালি বোতলটি নিয়ে স্টেডিয়ামের সামনে বেলালের দোকান থেকে এক লিটার পেট্রোল নেন। পরে গভীর রাতে মাস্ক পরে নির্বাচন কার্যালয়ে ঢুকে নিচতলার উত্তর পাশে স্টোররুমে জানালা খোলা পেয়ে পেট্রোল ঢেলে রুবেল আগুন লাগিয়ে দেন। বোতলটি নির্বাচন অফিসের বাউন্ডারি প্রাচীরের ওপর দিয়ে ফেলে দেন। আগুন লাগাতে গিয়ে তার ডান পাশের কানের নিচে ও ডান পাশের দাড়ির কিছু অংশ পুড়ে যায়। এরপর হাতে থাকা মোবাইল ফোন দিয়ে তিনি আগুন লাগানোর দৃশ্যের ছবি তুলে (সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়) দৌড়ে গেট টপকে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে বিষয়টি বুঝতে পেরে ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তাকে যাতে কেউ না চিনতে পারে সেজন্য বাসায় আসার পর তার পরিহিত জামা-কাপড় আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন। ওইদিন বিকেলেই শিমুল বিকাশে তাকে বাকি ৮ হাজার টাকা পাঠান। আসামিকে গ্রেপ্তারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী এবং দেখানো মতে নির্বাচন ভবনের বাউন্ডারি প্রাচীরের উত্তর পাশের নিচু জমি থেকে পেট্রোল নিয়ে আসা পানির (জীবন) বোতলটি উদ্ধার করা হয়।

এসপি আবু তারেক জানান, রুবেলের ব্যবহৃত স্মার্টফোন জব্দ করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বক্তব্য দিয়েছেন। তার মোবাইল থেকে ঘটনার সময় তোলা আগুন ধরানোর স্থিরচিত্র পাওয়া যায়। তার মোবাইল কথোপকথন পর্যালোচনা করেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদে জেলা খাদ্যগুদাম ও এলজিইডি অফিসে আগুন লাগানোর পরিকল্পনার বিষয়টিও জানা যায়। যে দুটি বিকাশ নম্বর থেকে রুবেলকে টাকা পাঠানো হয়েছে তাদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। নির্দেশদাতা ও অন্যান্য সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত