নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সরকারি হাসপাতালের জমি দখল করে সোনারগাঁ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অমিত হাসানের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার মোগরাপাড়া চৌরাস্তা-বারদী ব্যস্ততম সড়কের পাশে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় এ মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। অমিত হাসান ছাড়াও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ পাশের জায়গা দখল করে ভাতের হোটেল ও ওষুধের দোকান দিয়েছেন। এতে করে ওই এলাকায় প্রতিনিয়ত যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন দখলদারদের সতর্ক করলেও তারা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন। এ ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা যায়, উপজেলার ব্যস্ততম মোগরাপাড়া চৌরাস্তা-বারদী সড়কের সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এলাকায় তিন রাস্তার মোড়ে সরকারি জমি দখল করে সোনারগাঁ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অমিত হাসান জোরপূর্বক অবৈধভাবে আধাপাকা মার্কেট নির্মাণ করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসন দখলদারদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়। তবে প্রশাসনের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে প্রতিদিন রাতে ও দিনে অবৈধভাবে মার্কেট নির্মাণের কাজ অব্যাহত রাখা হয়েছে। এতে করে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী বিভিন্ন পরিবহনের যাত্রীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পরিবহন যাত্রী জানান, এ সড়কটি বিভিন্ন কারণে গুরুত্ব বহন করে। উপজেলা প্রশাসন, সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, বিভিন্ন শিল্পকারখানার যানবাহন ও যাত্রীরা এ সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কটির ত্রিমুখী পয়েন্টে এমনিতেই যানজটের সৃষ্টি হয়। তার ওপর সড়কের জায়গা দখল করে অবৈধ মার্কেট নির্মাণ করা হলে যানজট আরও তীব্র হবে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রথমদিকে এসিল্যান্ড গিয়ে বাধা দেন। পরে শোনা গেছে, ইউএনও, এসিল্যান্ডসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের ম্যানেজ করে এ কাজ অব্যাহত রেখেছেন। বিএনপির এক শীর্ষ নেতার ফোনে প্রশাসন নীরব ভূমিকায় রয়েছে। এ সুযোগে তারা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মার্কেট নির্মাণকাজ অব্যাহত রেখেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, সড়কের যে অংশে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে, এটি হাসপাতালের জায়গা। এখানে স্থাপনা নির্মাণ করলে যানজটের সৃষ্টি হবে এবং রোগীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সোনারগাঁ পৌরসভা বিএনপির সমর্থক মাজেদুল ইসলাম জানান, বিএনপিকে বিতর্কিত করতে একটি মহল দখল, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপকর্মে ব্যস্ত। হাসপাতালের জায়গায় প্রথমে পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক দোকান নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের অগ্রিম টাকায় ভাড়া দিয়ে প্রতি মাসে ভাড়া তুলছেন। এ বিষয়টি দেখার পর যুগ্ম আহ্বায়ক অমিত হাসানও আধাপাকা মার্কেট নির্মাণ করছেন। স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ কাজ করছেন। উপজেলা প্রশাসনের মাত্র ২০০ গজ দূরত্বে এ দখলদারিত্ব চলছে। ম্যানেজ হওয়ার কারণেই কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
সোনারগাঁ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অমিত হাসান বলেন, জায়গাটি পড়ে থাকার কারণে বিএনপির নেতাকর্মীদের বসার জন্য একটি কার্যালয় করা হচ্ছে। এটা আমার ব্যক্তিগত মার্কেট তৈরি করছি না।
সোনারগাঁ পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি সরকারি জমি দখল করিনি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হচ্ছে।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমাইয়া ইয়াকুবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এসিল্যান্ডের সঙ্গে কথা হয়েছে। অবৈধ দখল হলে অবশ্যই তারা উচ্ছেদ করবেন। উচ্ছেদের জন্য তারা আমাদের আবেদন করতে বলেছেন।
সোনারগাঁ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক সালাউদ্দিন সালু বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতার সরকারি জায়গা দখলের বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগের বিষয়ে প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জমিটি সরকারি হাসপাতালের। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
