ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না করেই বিল তুলে লাপাত্তা

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২২ এএম

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা অডিটরিয়াম ভবন নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ভবনের নির্মাণকাজ শেষ না করেই বিল তুলে উধাও হয়েছেন ঠিকাদার। অডিটোরিয়াম ভবনটি হস্তান্তরের আগেই ফাটল দেখা দিয়েছে দেয়ালে। পাশাপাশি ছাদ চুইয়ে পড়ছে পানি।

জানা গেছে, সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রোগ্রামের জন্য নাজিরপুর উপজেলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম ভবনের। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলায় একটি আধুনিক অডিটোরিয়াম নির্মাণে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কিছু কাজ করে ঠিকাদার পুরো বিল তুলে নিয়েছেন। বর্তমানে অডিটোরিয়াম ভবনটি একটি কঙ্কাল রূপে দাঁড়িয়ে আছে।

অডিটোরিয়ামটি নির্মাণ-তদারকির দায়িত্বে থাকা পিরোজপুর ও নাজিরপুর এলজিইডি অফিস রহস্যজনক কারণে এ বিষয়ে নীরবতা বজায় রাখছে। নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, মেসার্স সিমরান মায়ান ট্রেড এন্টারপ্রাইজ, এমএমটিআই (জেভি) দুটি প্রতিষ্ঠানের জয়েন্ট ভেঞ্চারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২০১৯ সালে নাজিরপুর উপজেলা অডিটোরিয়াম ভবন নির্মাণের কাজ পান সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিমের ভাই নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম সিদ্দীকি শাহীন ও শেখ মনিরুজ্জামান। ভবনটি নির্মাণের জন্য ব্যয় ধরা হয় ১০ কোটি টাকা। ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর কাজটি শুরু হয়ে ২০২১ সালের ২৩ অক্টোবর কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। ক্ষমতার প্রভাবে শুরু থেকে সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করার অভিযোগ রয়েছে। ভবনের পাইলিং ৪০-৫০ ফুটের পরিবর্তে মাত্র ১০ ফুট দেওয়ার অভিযোগ করেছে স্থানীয়রা। এছাড়াও কাজ সমাপ্ত না করে সম্পূর্ণ টাকা উত্তোলন করে লাপাত্তা হয়ে গেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটি একটি জলাশয়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সঠিকভাবে পাইলিং না করায় ভবনটি ইতিমধ্যে পশ্চিম পাশে হেলে পড়েছে। ঠিকাদার নুরে আলম সিদ্দিকী শাহীন নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়নি। কাজের অনিয়ম নিয়ে কথা বলতে গেলে স্থানীয়দের দেওয়া হতো হুমকি-ধমকি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত থাকার কারণে মাদক সেবন ও বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক কার্যক্রম চলছে এ অসমাপ্ত অডিটোরিয়াম ভবনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের পাশে এ অডিটোরিয়াম ভবনটি নির্মাণের শুরুতেই অনিয়ম করা হয়েছে। ৪০ ফুট পাইলিং দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ১০ ফুট পাইলিং দেওয়া হয়। সাংবাদিকসহ স্থানীয়রা সেই সময় কাজের অনিয়মের কথা বলতে গেলে মন্ত্রীর ছোট ভাই পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। এদিকে কাজ শুরুর পরপরই নির্বাহী প্রকৌশলী পিরোজপুর এলজিইডি এবং নাজিরপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন মিয়ার যোগসাজশে ঠিকাদার কাজ শেষ না করেই ১০ কোটি টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজিয়া শাহানাজ তমা বলেন, ‘স্থানীয় সরকার বিভাগের যেসব কাজে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে সেসব কাজ আপাতত বন্ধ রয়েছে। তবে তদন্ত শেষে কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত