সব বাধা পেরিয়ে জকসু নির্বাচন আজ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:২৯ এএম

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ আজ ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এক বছরের জন্য গঠিত হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রতিনিধিত্বশীল শিক্ষার্থী সংসদ। নতুন দিনের আশায় স্বপ্ন দেখছেন শিক্ষার্থীরা।

কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সময় ২০০৫ সালের ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন’-এ ছাত্র সংসদের বিধান না থাকায় ১৯ বছরেও কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়নি। শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে জকসু নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৯তম সিন্ডিকেট সভায় জকসুর খসড়া নীতিমালা অনুমোদন করে বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২৭ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায় জকসু নীতিমালা।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জকসুর কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদে ২১ পদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদে ১৩ পদে নির্বাচন হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে জকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের অধিকার, অ্যাকাডেমিক ও আবাসন সমস্যা, পরিবহন, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ভূমিকা রাখবেন।

জবি নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জকসু নির্বাচনে মোট ভোটার ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। হলে থাকা একজন নারী ভোটার হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ ৩৪টি ভোট দিতে পারবে। অন্য ভোটাররা কেন্দ্রীয় সংসদের ২১ পদে ২১টি ভোট দিতে পারবে।

জকসু নির্বাচনে চারটি পূর্ণাঙ্গ ও একটি আংশিক প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। পূর্ণাঙ্গ প্যানেলগুলো হলো ছাত্রদল-ছাত্রঅধিকার পরিষদের ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’, শিবির সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’, বামপন্থি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ ও ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ‘আংশিক প্যানেল’ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র : জকসু নির্বাচনে ৩৪টি পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১৯০ জন। কেন্দ্রীয় সংসদে ১৫৭ জন এবং হল সংসদে ৩৩ জন বিভিন্ন প্যানেল থেকে এবং স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করছেন। কেন্দ্রীয় সংসদে পুরুষ প্রার্থী ১৩৯ জন এবং নারী প্রার্থী ১৮ জন। সদস্য পদে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৭টি কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৭ জন প্রার্থী।

কেন্দ্রীয় সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রার্থী: সহসভাপতি (ভিপি) পদে ১২, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ৯, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৮, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে ৪, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ৭, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে ৭, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ৭, ক্রীড়া সম্পাদক পদে ৮, পরিবহন সম্পাদক ৪, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক ১০, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে ৬, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে ৫, ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক পদে ১৫, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে ৫, আন্তজার্তিকবিষয়ক সম্পাদক পদে ৮ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে ৫৭ জন।

হল সংসদ : নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানী হল শিক্ষার্থী সংসদে ৩৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। সহসভাপতি (ভিপি) ৩, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ৩, সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ২, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ২, সংস্কৃতি সম্পাদক ৪, পাঠাগার সম্পাদক ২, ক্রীড়া সম্পাদক ২, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক ৩, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক ৪ এবং কার্যনির্বাহী সদস্য ৮ জন।

ভোটকেন্দ্র ও ভোটার সংখ্যা : কেন্দ্রীয় সংসদ ও হল সংসদ নির্বাচনে ৩৯টি কেন্দ্রে ১৭৮টি বুথে ভোটগ্রহণ হবে। কেন্দ্রীয় সংসদের জন্য ৩৮টি ও হল সংসদের জন্য ১টি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ১০০ জন ভোটারের জন্য একটি বুথ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ একটি ভোটকেন্দ্র। মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ করা হবে।

হলে থাকা একজন নারী ভোটার হল সংসদের ১৩ পদের ভোটসহ ৩৪টি ভোট দিতে পারবেন। অন্য ভোটাররা কেন্দ্রীয় সংসদের ২১ পদে ২১টি ভোট দিতে পারবেন।

ব্যালট পদ্ধতি ও ভোট গণনা : নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে ওএমআর শিটে। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হবে মেশিনে। ফল ঘোষণা করা হবে ৩০ অথবা ৩১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তন থেকে।

হাতে ভোট গণনা চায় ছাত্রদল : ডিজিটাল কারচুপি রোধে ম্যানুয়ালি ভোট গণনা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। তাদের দাবিগুলো হলো স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সের সামনে প্রার্থীর এজেন্টের উপস্থিতিতে হাতে ভোট গণনা নিশ্চিত করা; ভোট গণনার পরই প্রতিটি কেন্দ্রের ফল সেই কেন্দ্রেই তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ফলাফলের কপি এজেন্টদের প্রদান করা; ভোটকেন্দ্রে কয়টা ব্যালট নষ্ট হয়েছে ও ব্যবহৃত হয়েছে এবং কতগুলো অব্যবহৃত তার হিসাব দেওয়া।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল থেকে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতে রুট প্ল্যান ও সময়সূচি ঘোষণা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। ‎বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-২০২৫ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ ও নির্বাচনের সব কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুল ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের রুট প্ল্যান ও সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে‎ (ক) শাহবাগ থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে অনির্বাণ-২, উল্কা-৪, ধূমকেতু, কালিগঙ্গা, তুরাগ, উত্তরণ-২; (খ) জবি ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাবে শাহবাগে গোমতী, রজতরেখা, উত্তরণ-২, নোঙ্গর, উল্কা-৪সহ কয়েকটি বাস; (গ) যাত্রাবাড়ী থেকে ছেড়ে আসবে জবি ক্যাম্পাসে বিজয়-১, ঐতিহ্য, বিজয়-২; (ঘ) জবি ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যাবে যাত্রাবাড়ীতে পদ্মা, আড়িয়াল, দ্বিতল বাসসহ আরও দুটি বাস। ‎বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ছাত্রছাত্রীদের দৈনিক সব রুটের শাটল ট্রিপ ও দুপুরের ট্রিপ যথারীতি চলাচল করবে।

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘আমরা একটি উৎসবমুখর, সুষ্ঠু নির্বাচন করার চেষ্টা করছি। সরকারের থেকে সবরকম সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করছি খুব ভালো একটি নির্বাচন হবে। নির্বাচনে কোনো সমস্যা হবে না।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান বলেন, ‘নিরাপত্তার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে।’

নির্বাচনের দিন কেন্দ্রে প্রবেশসংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, শুধু অনুমোদিত ব্যক্তি, ভোটার, শিক্ষক এবং নির্বাচনের কাজে বিশেষভাবে অনুমোদিত ব্যক্তিরাই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এজন্য নির্ধারিত পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত