ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোতে (সিআইবি) নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নার নাম অন্তর্ভুক্তিতে আট সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শুনানি নিয়ে গতকাল সোমবার চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন। এ আদেশের ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মান্নার অংশ নিতে আইনি বাধা নেই বলে জানান তার আইনজীবীরা। ‘আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড’র অংশীদার মাহমুদুর রহমান মান্না তার নাম সিআইবি থেকে বাদ দিতে কয়েক দিন আগে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছিলেন।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাহমুদুর রহমান মান্নার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কাছে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা আদায়ে গত ১০ ডিসেম্বর ‘কল ব্যাক নোটিস’ জারি করে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড। এতে মান্না ও তার দুই অংশীদারকে ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের নির্দেশ দেয়। নোটিসে বলা হয়, ২০১০ সালে এ প্রতিষ্ঠানকে ২২ কোটি টাকা বিনিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ করেনি।
গত ২৪ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. বজলুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্টের অবকাশকালীন দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি নিয়ে রিট আবেদনটি খারিজের আদেশ দেয়। আদেশের বরাতে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তখন বলেছিলেন, ঋণের ২ শতাংশ হারে কিছু অংশ পরিশোধ করেছেন মান্না। কিন্তু হাইকোর্ট তাতে সন্তুষ্ট হয়নি। হাইকোর্ট বলেছে, যেহেতু ইসলামী ব্যাংকের চিঠির আলোকে সিআইবির তালিকায় তার নাম এসেছে তাই এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংককেই বাংলাদেশ ব্যাংকে চিঠি পাঠাতে হবে।
পরে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় বিষয়টি শুনানিতে আসে। আদালতে মান্নার পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, সৈয়দ মামুন মাহবুব ও আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম আব্দুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। অ্যাডভোকেট মামুন মাহবুব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মেনে ২ শতাংশ হারে ঋণের টাকা জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু সেটি গ্রহণীয় না হওয়ায় আমরা চেম্বার আদালতে আবেদন করেছিলাম। আদালত সিআইবি থেকে তার নাম স্থগিত করেছে। তিনি (মান্না) ইতিমধ্যে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছেন।’
