হিলিতে জেঁকে বসেছে শীত, বিপাকে খেটে খাওয়া মানুষ

আপডেট : ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:০৭ পিএম

দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে পুরোপুরি জেঁকে বসেছে শীত। সঙ্গে হিমেল বাতাস শীতের আরো মাত্রাকে বাড়িয়ে তুলেছে। তীব্র শীতের কারনে বিপাকে পড়েছেন নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। কাজে যেতে পারছেনা অনেকে পেটের তাগিদে বের হলেও আক্রান্ত হচ্ছেন শীতজনিত নানা রোগে।

হিলিতে গত কয়েকদিন ধরেই শীত অব্যাহত রয়েছে। দিন দিন আগের চেয়ে তাপমাত্রা কমায় বাড়তি শীত অনুভূত হচ্ছে এতে পুরোপুরি জেঁকে বসেছে শীত। সঙ্গে কুয়াশার মাত্রা অনেকটা বেড়েছে ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত কুয়াশা ঝরছে। দিনভর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি। আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে গত কয়েকদিন ধরেই দেখা মিলছেনা সূর্যের। শীতের কারনে সকালবেলা কাজে যেতে পারছে না নিন্ম আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। যারা পেটের তাগিদে বাধ্য হয়ে বের হচ্ছেন আক্রান্ত হচ্ছে শীতজনিত নানা রোগে। এদিকে গরম কাপড়ের অভাবে কষ্ট ভোগ ছিন্নমূল মানুষজন। 

হিলির ফকিরপাড়া গ্রামের চা বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের মত বয়স্ক মানুষদের জন্য শীত খুব ক্ষতিকর একটা বিষয়। কয়েকদিন ধরে খুব বেশী ঠাণ্ডা পড়েছে ঠাণ্ডার জালায় বাড়ি থেকে বাহির হওয়া যাচ্ছেনা এমন অবস্থা হয়ে দাড়িয়েছে। তারপরেও পেটের তাগিদে পেট চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে এসে দোকান খুলেছি। বেচকেনা হলে দুচারটাকা আয় হয়ে সেই দিয়ে কোনরকম করে চলবো সেই কারনে শীত উপেক্ষা করে এসেছি। শীতের কারনে আমাদের অসুখ বিসুখ লেগেই আছে বিশেষ করে জ্বর সর্দি লেগেই আছে। 

দিনমজুর রেজাউল ইসলাম বলেন, খুবই ঠাণ্ডা পড়েছে এর উপর ঘনকুয়াশা ঝরছে পাচ হাত দুরের জিনিস দেখা যাচ্ছেনা যার কারনে বাড়ি থেকে বের হওয়ায় যাচ্ছেনা এমন অবস্থা দাঁড়িয়েছে। আবার প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে কষ্ট করে কাজের সন্ধানে আসলেও কাজ পাওয়া যাচ্ছেনা। অনেক দিন কাজ না পেয়েই খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে। যার কারনে খুব কষ্টের মধ্যে দিন পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে আমাদের। আমাদের দিক কেউ তো নজর দেয়না একটা শীতের কাপড় চোপড় কেউ দিত তাহলে খুব উপকার হত।

চন্ডিপুর গ্রামের মুদিদোকানী শেরেগুল ইসলাম বলেন, গত কয়েকদিন থেকেই হিলিতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডা পড়েছে। প্রচণ্ড ঠাণ্ডার কারনে আমরা যারা বয়স্ক মানুষজন রয়েছি তারা খুব সমস্যার মধ্যে পড়ে গিয়েছি। কয়েকদিন ধরেই গায়ে জ্বর জ্বর ভাব বিরাজ করছে সেই সঙ্গে সর্দি তো লেগেই আছে।   

আবহাওয়া অধিদপ্তর দিনাজপুর এর ইনচার্জ তোফাজ্জল হোসেন, আজ সকাল ৯টায় দিনাজপুরে সর্বনিন্ম তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস আর বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। শৈতপ্রবাহ না থাকলেও শৈতপ্রবাহের চেয়ে করুন অবস্থা বিরাজ করছে। বর্তমানে দিন ও রাতের পুরো সময় জুড়ে তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৪ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। টানা ৩ দিন ধরে এ অবস্থা কম-বেশি অব্যাহত রয়েছে। যা জনজীবনে এক প্রকার অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত