স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বড় ফ্যাক্টর

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২৭ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল শেষ। সারা দেশের মতো পাবনার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদেরও এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। এসব আসনে বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন জামায়াতের শক্ত প্রার্থী। পাশাপাশি বিএনপি প্রার্থীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে তুলছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও। এর মধ্যে সবার নজর পাবনা-১, পাবনা-৩ ও পাবনা-৪ আসনের দিকে। এ তিনটি আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে দলের একাধিক নেতা মনোনয়নপত্র তুলেছেন।

পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়ার আংশিক) আসনটি ১৯৯১ ও ২০০১-এর নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর দখলে ছিল। জামায়াতের সাবেক আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী দুই মেয়াদে এ আসন থেকে নির্বাচিত হন। এরপর আর জামায়াত এ আসনটি দখলে নিতে পারেনি। ১৯৯৬ সালের জুন থেকে ২০০১ সাল এবং ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আসনটি। এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপি মনোনয়ন দিয়েছে সাঁথিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান শামসুকে। ২০১৮ সালে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক তথ্যমন্ত্রী ড. অধ্যাপক আবু সাইয়িদও এ আসনে স্বতন্ত্র মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। জামায়াত প্রার্থী করেছে মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান মোমেনকে। এ আসনে জাতীয়াতাবাদী তাঁতী দলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হাজি ইউনুস, যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা মাসুদুল হক, বিএনপি নেতা খায়রুন নাহার খানম মিরুও মনোনয়ন দাখিল করেছেন। সীমানা জটিলতা নিয়ে নানা নাটকীয়তা শেষে হাইকোর্টের রায়ে পুরনো সীমানা পুনর্বহাল হয়েছে আসনটির। এ নিয়ে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এ আসনে মূল লড়াই হবে দাঁড়িপাল্লার সঙ্গে ধানের শীষের প্রার্থীর।

পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার আংশিক) আসনে ১৯৯১ এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আহমেদ তফিজ উদ্দিন বিজয়ী হন। এরপর ২০০৮ সালে সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এ কে খন্দকার এবং পরবর্তী সময়ে বিতর্কিত নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বাচিত হন। এবার এ আসন থেকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবেক এমপি ও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম সেলিম রেজা হাবিব। জামায়াতের প্রার্থী সুজানগর উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মাওলানা হেসাব উদ্দিন। এ ছাড়া এই আসনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা আফজাল হোসেন খান ও গণফোরামে প্রার্থী শেখ নাছির উদ্দিন। এ আসনে বিএনপির অবস্থান শক্ত।

পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসন ১৯৯১ ও ২০০১ সালে বিএনপির দখলে ছিল। মাঝে ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন। এরপর ২০০৮ থেকে দখলে ছিল আওয়ামী লীগের। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তার জন্মস্থান জেলার পাবনা-২ আসনের সুজানগর উপজেলায়। এ আসনে গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা চাটমোহর। কারণ, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরের সম্মিলিত ভোটারের চেয়ে বেশি ভোটার চাটমোহর উপজেলায়। এ আসনে স্থানীয় প্রার্থীর দাবিতে নেতাকর্মীদের চাপে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন চাটমোহর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি আনোয়ারুল ইসলাম। তার নিজস্ব ভোট ব্যাংক ও আঞ্চলিক অবস্থান ভোটের মাঠে বড় ফ্যাক্টর হবে। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী দলের ভাঙ্গুড়া উপজেলার আমির মো. আলী আছগার। এ ছাড়া এই আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের হাসানুল ইসলাম রাজা ও জাতীয় পার্টির মীর নাদিম আহমেদ ডাবলু।

পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনে ১৯৯১ সালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম সরদার জয়লাভ করেন। ১৯৯৬ সালের জুনের নির্বাচন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। এবার এ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবকে। এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টুসহ বিএনপির একাধিক নেতা। এ ছাড়া আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম সরদার। এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী জেলা আমির মাওলানা আবু তালেব ম-ল। আটঘরিয়া উপজেলায় জামায়াতের ভোটব্যাংক রয়েছে। আর ঈশ্বরদীতে আবু তালেবের বাড়ি হওয়ার সুবাদে সেখানেও আলাদা অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবেন মনে করছেন ভোটাররা।

পাবনা-৫ (সদর) আসনে জেলার কেন্দ্র হিসেবে সবার নজর থাকে। এ আসনে ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা আব্দুস সুবহান নির্বাচিত হন। ২০০৮ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এ আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। এর আগে স্বাধীনতার পর বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বকুল ছাড়া এ আসনে বিএনপির কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। এ আসনে বিএনপিদলীয় প্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। এখানে জামায়াতের প্রার্থী করা হয়েছে জেলার নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা ইকবাল হুসাইনকে। এ আসনে সার্বিক সমীকরণে বিএনপির প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও আলাদা ভোটব্যাংক থাকায় শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারে জামায়াত। এই আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুফতি নাজমুল হাসান ও এবি পার্টির আব্দুল মজিদ মোল্লা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত