মব সন্ত্রাসে নিহত ১৯৭, পরিস্থিতি উদ্বেগজনক: আসক

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৪৬ পিএম

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, ২০২৫ সালে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে গণপিটুনি ও হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, যেখানে অন্তত ১৯৭ জন নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘তওহীদি জনতার’ নামে বেআইনিভাবে গঠনকৃত মবের হামলায় শিল্প-সংস্কৃতি কেন্দ্র ভাঙচুর, বাউল সম্প্রদায়ের ওপর হামলা এবং কবর থেকে লাশ উত্তোলনের মতো ঘটনা ঘটেছে। মুক্তিযোদ্ধা ও বিরুদ্ধ মতের মানুষও মারধর ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

২০২৫ সালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে; ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’-এর নামে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা কমপক্ষে ৪২টি ঘটেছে, যেখানে একজন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন।

পারিবারিক সহিংসতার ঘটনাও প্রবলভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বছরে কমপক্ষে ৫৬০টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ২৮ জন নারী স্বামীর হাতে, ১০ জন স্বামীর পরিবারের হাতে এবং ৫১ জন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হাতে নিহত হয়েছেন। ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির ঘটনায় ৭৪৯টি ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ৫৬৯টি একক ও ১৮০টি দলবদ্ধ।

শিশু নির্যাতন ও যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতাও উদ্বেগজনক। বছরে ১,০২৩ শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যাদের অন্তত ৪১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। যৌতুকসংক্রান্ত সহিংসতায় ৭৯টি ঘটনা ঘটেছে, যেখানে ৪১ জন নারী নিহত হয়েছেন।

সীমান্ত এলাকায়ও মানুষের জীবন নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। ২০২৫ সালে কমপক্ষে ৩৪ জন বাংলাদেশি নাগরিক সীমান্তে নিহত হয়েছেন, প্রধানত বিএসএফের গুলিতে বা শারীরিক নির্যাতনের পর।

আসক জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদাসীনতা এবং অপরাধীদের বিচারবহির্ভূত রাখার প্রবণতা মানবাধিকারের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত