যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড

আপডেট : ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৩ পিএম

তীব্র শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। গত এক সপ্তাহ ধরে অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে সাধারণ মানুষের। কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতের তীব্রতা। এরই মধ্যে যশোরে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন বুধবারও একই তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। চলতি শীত মৌসুমে এর আগে আরও দুই দিন যশোরে দেশের সর্বনিম্ন  তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, পৌষ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই যশোর অঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়। বর্তমানে তা রূপ নিয়েছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

গত শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যশোরে তাপমাত্রা নেমে আসে ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা ছিল সেদিন দেশের সর্বনিম্ন। এর আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যদিও পরবর্তী কয়েকদিন তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তবে সূর্যের দেখা না মেলায় এবং ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা কমেনি। শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা পড়ছে। বিশেষ করে শেষ রাত থেকে ভোর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারদিক। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে  কুয়াশা কিছুটা কাটলেও সূর্যের তাপ তেমন অনুভূত হচ্ছে না। ফলে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে।

তীব্র শীতে কৃষি খাতেও দেখা দিয়েছে শঙ্কা। কৃষকরা বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন। দীর্ঘদিন এই ঠান্ডা অব্যাহত থাকলে ‘কোল্ড স্ট্রোক’-এ বীজতলা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পাশাপাশি আলু ও সরিষার ক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।

শীতের তীব্রতায় মানুষের পাশাপাশি প্রাণিকুলও বিপর্যস্ত। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছেন। জীবিকার তাগিদে কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোরেই কাজে বের হতে হচ্ছে তাদের। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

মাহিদিয়া গ্রামের বাসিন্দা শিমুল হোসেন বলেন, ‘শীত এমনভাবে পড়েছে যে ঘর থেকে বের হতে মন চায় না। বাজারেও লোকজন কম। বিকেলের দিকে কিছু মানুষ বের হলেও সন্ধ্যার পর এলাকাটা প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।’

চাঁচড়া এলাকার রিকশাচালক রহিম আলী জানান, ‘শীতে সকালে ও রাতে একেবারেই যাত্রী পাওয়া যায় না। আয় অনেক কমে গেছে।’

এ দিকে তীব্র ঠান্ডা থেকে বাঁচতে শহর ও গ্রামাঞ্চলে কাঠ, খড়কুটো ও অন্যান্য জ্বালানি জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর দৃশ্য চোখে পড়ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত